ঢাকা, শনিবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০, ০২ মার্চ ২০২৪, ২০ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

সংস্কার হচ্ছে অষ্টাদশ শতাব্দীর সংরক্ষিত পুরার্কীতি ‘বড়কুঠি’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫৩ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০২১
সংস্কার হচ্ছে অষ্টাদশ শতাব্দীর সংরক্ষিত পুরার্কীতি ‘বড়কুঠি’

রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর পদ্মপাড়ে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে পুরার্কীতি ‘বড়কুঠি’। এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর।

জীর্ণ এই ভবনটি অবশেষে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।  

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বড়কুঠির সংস্কার ও সংরক্ষণ করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। কাজের উদ্বোধন শেষে বড়কুঠি পরিদর্শন করেন মেয়র।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উদ্বোধন উপলক্ষে সেখানে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন বড়কুঠি। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাংলায় এসে ডাচরা রাজশাহীর পদ্মার তীরে এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল। পরবর্তীসময়ে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বড়কুঠি ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ছিল।  

মেয়র বলেন, বড়কুঠিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে আমি প্রথমবার মেয়র থাকাকালে (২০০৯-২০১৩) প্রাণপণে চেষ্টা করেছিলাম, তৎকালীন রাবি উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে এটি সংস্কারের জন্য। কিন্তু সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দেননি। আজ আনন্দের দিন অনেক পরে হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বড়কুঠির সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ শুরু করতে পেরেছে।

মেয়র আরো বলেন, পদ্মাপাড়ে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত বড়কুঠি পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। বড়কুঠি বিশ্বের মধ্যে আইকনিক সিম্বল হতে পারে। এছাড়া রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী, বাগমারা তাহেরপুরে কংস নারায়ণের রাজবাড়িতে অবস্থিত মন্দিরসহ অন্য প্রচীন স্থাপনা ভালোভাবে সংরক্ষণ করে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হলে দেশ-বিদেশি পর্যটকরা আকর্ষিত হবেন। পর্যটকদের আগমনে রাজশাহী সমৃদ্ধ হবে। আগামীতে পর্যটনখাত বাংলাদেশের অন্যতম একটি আয়ের খাতে পরিণত হবে।

সভায় বিশিষ্ট লেখক ও রাজশাহীর ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, রাসিক মেয়রের একক প্রচেষ্টা ও ইচ্ছেই অবশেষে বড়কুঠি সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করা হলো। এজন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই।  

সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে মে মাসে বড়কুঠিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। বড়কুঠির সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ কোভিড-১৯ এর কারণে শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হলো। প্রথম পর্যায়ে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সংস্কার কাজ শুরু হলো। ইতোমধ্যে বড়কুঠিকে একটি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, সেই প্রকল্প থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া যাবে। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে সংস্কার, সংরক্ষণ ও জাদুঘর করা হবে।

তিনি আরো বলেন, সংস্কার ও সংরক্ষণের পর বড়কুঠিকে জাদুঘরে পরিণত করা হবে। যেহেতু এটি ডাচরা নির্মাণ করেছিলেন, তাই জাদুঘরটি ডাচদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ছবি ও পেইন্টিং ও বড়কুটি নির্মাণের ইতিহাসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমৃদ্ধ করা হবে। কাজ শেষে জাদুঘরটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ডাচদের ব্যবহৃত কোনো জিনিসপত্র, তথ্য-উপাত্ত যদি কারো কাছে থেকে থাকে, তাহলে আমাদের দেওয়ার অনুরোধ করছি।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু। অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবির বিন কায়সার, প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, রাসিকের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর কবির।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫১ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০২১
এসএস/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।