ঢাকা, রবিবার, ২৮ চৈত্র ১৪২৭, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৭ শাবান ১৪৪২

জাতীয়

খুলনায় ভাড়াটিয়ার সংকটে বাড়িওয়ালারা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯১২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১
খুলনায় ভাড়াটিয়ার সংকটে বাড়িওয়ালারা

খুলনা: নতুন বছরের প্রায় দুই মাস পার হতে চললেও ভাড়াটিয়া সংকট কাটছে না খুলনার বাড়িওয়ালাদের। অনেকেই আশায় ছিলেন নতুন বছরে কাঙ্ক্ষিত ভাড়াটিয়া মিলবে।

করোনা ভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকেই ভাড়াটিয়াদের অনেকে গ্রামে চলে যাওয়ায় হাজারও বাড়িওয়ালার একমাত্র আয়ের পথ বাড়িভাড়া বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

নগরীর নিরালা ও সোনাডাঙা আবাসিক এলাকা, হাজী মহসিন রোড, খান জাহান আলী রোড, কেডিএ অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে অলিগলিতেও হাজার হাজার ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ড সাঁটানো। প্রতিটি ভবনেই কোনো না কোনো ফ্ল্যাট খালি। নগরীর প্রতিটি এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন টু-লেট সাইনবোর্ডের আধিক্য বেশি।

দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। করোনা শনাক্তের ১৮ দিন পর গত ২৬ মার্চ সরকার প্রথম সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এ সময় অনেকের চাকরি চলে যায়। কারও কারও বেতন কমে যায়। এ কারণে অনেকে পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আবার অনেকে চাকরি হারিয়ে সপরিবার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ফলে শহরের ভাড়ার বাসা ছেড়ে দেন।

বাড়ি বাড়ি ভাড়াটিয়া সংকটের তীব্রতা স্পষ্ট হয় বাগমারা, গল্লামারী, নিরালা ও দৌলতপুর এলাকায় গেলেই। একসময় মহানগরীর কাঙ্ক্ষিত এলাকায় সাধ্যের মধ্যে ভাড়াবাড়ি পাওয়া যেন ছিল সোনার হরিণ। করোনার কারণে পরিস্থিতি এখন উল্টো।

বাড়িওয়ালারা বলছেন, মহামারির সময় অনেকেই কাজ হারিয়ে শহর ছেড়েছেন। অনেকে গ্রামে গিয়ে আর না ফেরায় বাড়ি ভাড়াও রয়েছে বাকি। ঘর ছাড়ছেনও না, ভাড়াও দিচ্ছেন না। নতুন ভাড়াটিয়া খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। ভাড়াটিয়া নেই, আয় বন্ধ। কিন্তু সিটি করপোরেশন, ওয়াসার বিলসহ সব পাওনা দিতে হচ্ছে।

খুলনার খাসা অর্গানিক পণ্যের স্বত্বাধিকারী ও আমরা তরুণ উদ্যোক্তা গ্রুপের অ্যাডমিন হেলাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘করোনার কারণে মানুষের আয় কমেছে। স্বল্প আয়ে টিকে থাকতে অনেকে পরিবারকে গ্রামে রেখে নিজে ব্যাচেলর হিসেবে থেকে আয়ের সমতা ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। এ কারণে ভাড়াটিয়া সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ’

হাজী মেহের আলী সড়কের ঐতিহ্য ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুর রাহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘করোনার বন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বেশিভাগ মানুষের ব্যবসায় ধস নেমেছে। অনেকে হারিয়েছেন চাকরি। বাধ্য হয়ে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন। ছেলে-মেয়েদের স্কুল কলেজ বন্ধ। তাই কমেছে ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াও। কোথাও কোথাও পরিবারের সবাইকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে উপার্জনকারী ব্যক্তি টিকে থাকার লড়াইয়ে কোনো রকম ম্যাচে একটি সিট নিয়ে আছেন। এজন্য শহরের সব জায়গাতেই ভাড়াটিয়া সংকট। বাড়ি ভাড়া যেমন হচ্ছে না, তেমনই খালি হয়ে যাচ্ছে অনেক প্রসিদ্ধ স্থানের দোকান-রেস্তোরাঁও। ’

দ্রব্যমূল্যের গতি নিম্নমুখী ও করোনার ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত এ সংকট কাটবে না বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১
এমআরএম/এফএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa