ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

ফিরে দেখা রাঙামাটি ২০২০

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
ফিরে দেখা রাঙামাটি ২০২০

রাঙামাটি: আসছে নতুন বছর। বিদায় নিচ্ছে পুরনো বছর।

নতুন বছরে সবার আশা সবুজ পাহাড়ে শান্তির বারতা ছুঁয়ে যাক। হানাহানি বন্ধ হোক। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করবে। সবুজ পাহাড় থেকে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে পড়ুক পুরো দেশ জুড়ে, এটাই সবাইর প্রত্যাশা।

২০২০-এ রাঙামাটিতে যা ঘটেছিল:

২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের দেবতাছড়ি এলাকায় মোটরসাইকেল চালক বাচিমং মারমাকে (৩২) গুলি করে হত্যার মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এরপর লংগদু-বাঘাইছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৯ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের গুলিতে পাণ্ডব চাকমা (৪০) নামে জেএসএস সংস্কারের (এমএন লারমা গ্রুপ) এক কর্মী নিহত ও অপর এক কর্মী আহত হন। পহেলা এপ্রিল কাপ্তাই উপজেলায় উসুইপ্রু মারমা (৩০) নামে যুবলীগের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।  

৮ জুন কাপ্তাইয়ে সন্তু গ্রুপের পিসিজেএসএসের কালেক্টর প্রিমেক্স চাকমাকে (৪০) গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। ৮ সেপ্টেম্বর নানিয়ারচর উপজেলায় সুরেশ চাকমা (৬৫) নামে এক চা-দোকানিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

৫ অক্টোবর রাজস্থলী উপজেলায় জালাল উদ্দিন (২৮) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ১১ অক্টোবর কাপ্তাই উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন সন্তু গ্রুপের পিসিজেএসএসের কালেক্টর বসন্ত তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫)। ১৩ অক্টোবর নানিয়ারচর সেনা টহল দলের ওপর হামলা চালানোর সময় ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) দুই সশস্ত্র ক্যাডার নিহত হন। এতে আহত হন নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য।

২০ অক্টোবর বাঘাইছড়ি উপজেলায় দু’পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে জেএসএস সংস্কার সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা রতন চাকমা রত্ন (২২) নিহত হন। ১১ নভেম্বর কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্যা ইউনিয়নের গর্জনিয়া এলাকায় দুই পিসিজেএসএস কর্মী সুভাষ তঞ্চঙ্গ্যা (৪৫), ধনঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যাকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

৩ ডিসেম্বর নানিয়ারচর উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের সশস্ত্র সদস্য নয়ন চাকমা ওরফে সাজেক চাকমার (৩৫) মৃত্যু হয়। ৬ ডিসেম্বর বাঘাইছড়ি উপজেলায় রতন প্রিয় ধীমান চাকমা (৩৫) নামে জেএসএস (এমএন লারমা) দলের এক সমর্থককে গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা।

১৪ ডিসেম্বর রাঙামাটি সদরের মগবান ইউনিয়নের দুল্লাছড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল দলের সঙ্গে জেএসএস সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময়ে বিল্টন চাকমা নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হন।

পুরো বছরে আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, কাপ্তাই হ্রদে ডুবে এবং গুপ্ত হামলায় ২৭ জন মারা গেছেন। বন্য হাতির আক্রমণে দু’জন এবং একজন যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এছাড়াও বাঘাইছড়ির সাজেকে হামে আক্রান্ত হয়ে নয়টি শিশু মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৫৫ শিশু। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৬ জন।

সারাদেশের মতো পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে করোনা বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটিবাসী দাবি জানায় যেন রাঙামাটিতে একটি পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর সেই ডাকে সারা দিয়ে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য ৬৯ লাখ টাকার একটি চেক দেয়। গত ৬ আগস্ট রাঙামাটি সদর হাসপাতালে প্রধান অতিথি থেকে পিসিআর ল্যাবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পবন চৌধুরী।

সদ্য বিদায়ী রাঙামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে। যেখানে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে পুলিশ তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬১২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।