ঢাকা, সোমবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

জাতীয়

কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পুনরায় দক্ষ করে তুলতে হবে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ২১, ২০২০
কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পুনরায় দক্ষ করে তুলতে হবে

ঢাকা: কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা না গেলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করতে সম্ভব নয়। এজন্য ২০২৫ সালের মধ্যে কর্মরত মোট জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে  পুনরায় দক্ষ করে তুলতে হবে।

পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ানোসহ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, তথ্যপ্রযুক্তিখাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় নীতিমালার সংষ্কার, দেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  

শনিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “নতুন কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা প্রেক্ষিত ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্য” শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে এ মবিনের সভাপতিত্বে  ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ-এর সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা, বাংলাদেশে ইউএনডিপি-এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী, ইউনিডো-এর আবাসিক প্রতিনিধি জাকি উজ জামান এবং বাংলাদেশস্থ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর আবাসিক প্রতিনিধি তুমো পুটিয়ানেন প্রমুখ।  

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআইর সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, জনসংখ্যার আধিক্যতা থাকলেও বাংলাদেশের শিল্পখাতে দক্ষ  লোকবলের প্রচুর অভাব রয়েছে এবং আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেকার। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বেকারত্ব সমস্যায় ভুগছে। এজন্য ২০২৫ সালের মধ্যে আমাদের কর্মরত মোট জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পুনঃদক্ষ করে তুলতে হবে। এ অবস্থার আলোকে প্রথাগত দক্ষতার পাশাপাশি নতুন পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং এর যথাযথ বাস্তাবায়নের ওপর ডিসিসিআই সভাপতি জোরারোপ করেন।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকবিলায় প্রথম থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সরকার স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর ফলে আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থিতিশীলতার সঙ্গে অগ্রসরমান হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নীতি সহায়তা দেওয়া নিয়ে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিপ্লবকে মেনে নিয়ে, এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণে সরকার ও বেসরকারিখাতকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।  

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বেসরকারিখাত এবং এনজিওগুলোকে একত্রিত করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে ইউএনডিপি-এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা থাকলেও, দক্ষ জনবল  তৈরিতে যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত ভাবনার বিষয় এবং এ অবস্থা উত্তরণে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারকে একত্রে কাজ করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে শিক্ষা কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থা আরও বেশি হারে ব্যবহারের ওপর জোর দেন।      

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর আবাসিক প্রতিনিধি তুমো পুটিয়ানেন বলেন, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, শ্রমবাজারের নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের নিরিখে শ্রমখাতের আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি সরকার ও বেসরকারিখাতের সমন্বয় বাড়ানোর এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণের ওপর জোর দেন। এছাড়া তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দেশের বেসরকারিখাতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান।      

ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ-এর চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ।  

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিবছর ২ দশমিক ২ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হয়, যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়।  

মাশরুর রিয়াজ জানান, করোনা মহামারির কারণে আঙ্কটাড-এর হিসেব মতে, ২০২০ বৈশ্বিক বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাবে এবং বৈশ্বিক এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রায় ৫০ শতাংশদের অস্তিত্ব রক্ষা হুমকির মুখে পড়বে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

ওয়েবিনারের নির্ধারিত আলোচনায় গ্রামীণফোন লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, এ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সহযোগী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত আহামদ এবং জেনারেশন আনলিমিটেড, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ম্যারিয়্যান ওহলার্স অংশ নেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ২১, ২০২০ 
জিসিজি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa