ঢাকা, শনিবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

জাতীয়

জমি বেদখল হওয়ার কষ্টে রেললাইনে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০২০
জমি বেদখল হওয়ার কষ্টে রেললাইনে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা

রাজশাহী: রাজশাহীতে সুইসাইড নোট লিখে রেললাইনে মাথা দিয়ে মো. এমরুল হাসান (৪০) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন।  

এমরুল হাসান চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর এলাকায় মৃত ফিটু মিয়ার ছেলে।

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে মহানগরীর বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, বুধবার সকালে এমরুল ক্র্যাচে ভর দিয়ে রেললাইনের পাশ ধরে হাঁটছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে রহনপুরগামী একটি কম্পিউটার ট্রেন আসে। ট্রেনটি খুব কাছে চলে এলেই এমরুল রেললাইনে মাথা পেতে দেন। এতে তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

এমরুলের পকেট থেকে দু'টি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুইসাইড নোটে এমরুল লিখেছেন, ‘জালাল, কালাম ও তাদের ছেলে রানাসহ অনেকে আমার হাত ও পা ভেঙে দিয়েছে। এ কষ্টে আমি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছিলাম। আমার হাত ও পা ভাঙার কারণে বাড়ির সামনের রাস্তা দুইবার বন্ধ করে দেয়। ' এতে তার কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেন।

মৃত্যুর পর কোন মোবাইল নম্বরে ফোন করে খবর দেওয়া যাবে, কোন কবরস্থানে দাফন করা হবে সে কথাও সুইসাইড নোটে লেখা আছে।

আর একটি সুইসাইড নোটে এমরুল লিখেছেন, ‘আমার জীবনে আমার আপনজন আমার মা, বেটি (মেয়ে) ও স্ত্রী। তিনজন আমার প্রিয়। আমার আর ভাল লাগছে না। আমার লেখা কাগজ দুইটা আমার স্ত্রীকে দেবেন। কাগজের ফটোকপি পুলিশকে দেবেন। কাগজের মেইন কপি দুইটা আমার স্ত্রীকে দেবেন। ’

জানতে চাইলে নিহত এমরুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, গত সোমবার চিকিৎসার জন্য তারা রাজশাহী এসেছেন। নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় তারা তার বোনের বাড়িতে ওঠেন। সকালে এমরুল তাকে জানান তিনি চা পান করতে বের হচ্ছেন। এরপর তিনি রেললাইনে মাথা পেতে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ সুইসাইড নোটে থাকা থাকা তার বোনের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করে।

আয়েশা আরও জানান, প্রায় ৫ মাস আগে স্থানীয় জালাল ও কালাম তাদের জমি দখল করে বাড়ি করেছেন। এমরুল বাধা দিতে গেলে পিটিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দেয়। তার স্বামীকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলতে হতো। জমি দখলের বিষয়ে মামলা করলেও হাত-পা ভাঙার কারণে দৌড়াদৌড়ি করতে পারতেন না। সে কারণে জমিও উদ্ধার করতে পারেননি। ক্ষোভে তার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।

নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান বলেন, রেলওয়ে থানা পুলিশ নিহত এমরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেও জানান ওসি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১১ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০২০
এসএস/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa