ঢাকা, শনিবার, ১৫ কার্তিক ১৪২৭, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

দায়িত্ব ভুলে যাবেন না, চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২০
দায়িত্ব ভুলে যাবেন না, চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং

ঢাকা: মানবতার সেবাই একজন চিকিৎসকের প্রথম ও প্রধান কাজ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আশা করি যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনারা (চিকিৎসক) আপনাদের দায়িত্ব ভুলে যাবেন না।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সোসাইটি অব এনেসথেসিওলজিস্টস আয়োজিত ‘ক্রিটিকাল কেয়ার-২০২০’ শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক ই-সম্মেলনে এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

ভার্চ্যুয়াল এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার রেকর্ডেড বক্তব্যে বলেন, চিকিৎসা একটি মহান পেশা। একজন অসুস্থ মানুষের সেবা করে একজন চিকিৎসক মূলত মানবতার সেবা করেন। সুতরাং আপনি যখন চিকিৎসক হবেন আপনার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে মানবতার সেবা করা। আশা করি যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব ভুলে যাবেন না।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার সঙ্গে চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীদের শ্রম ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা এবং চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রমই পারে বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। আমাদের সৌভাগ্য বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার দু’টোই কম। আশা করি আগামী দিনগুলোতে এ মহামারির আরও বিস্তার রোধ করতে  আমরা সক্ষম হবো।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে দুই হাজার চিকিৎসক, পাঁচ হাজার নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগসহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনা মহামারি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালনকালে এনেসথেসিওলজিস্টসসহ উল্লেখ্যযোগ্য চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও স্বজন হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নে সরকারে উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে আমার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই আমরা শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে, চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনসহ চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ করেছি।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে আমরা দেশে বেশ কয়েকটি নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করেছি। আমাদের শক্তিশালী বেসরকারি সেক্টরও চিকিৎসাসেবা দিতে এগিয়ে এসেছে। গ্রামের মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র করেছি। সেখানে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করছে সরকার।

এনেসথেসিওলজিস্টসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্জারির আগে, চলাকালীন ও পরে রোগীদের পেরিওপারেটিভ যত্নের সঙ্গে এনেসথেসিওলজিস্টসের বিষয়ে সর্বত্রই বিশেষ মনোযোগ বাড়ছে। এর কারণ এর আওতায় এনেসথেসিয়া, নিবিড় যত্নের ওষুধ, ক্রিটিক্যাল জরুরি ওষুধ ও ব্যথার ওষুধ। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা তাদের অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেবো।  

তিনি বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি এনেসথেসিওলজিস্টসরা অপারেশন থিয়েটারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কোভিড-১৯ মহামারিতে আমাদের এনেসথেসিওলজিস্টসরা আইসিইউতে এবং আইসিইউর বাইরের কোভিড-১৯ রোগী ম্যানেজমেন্টে  দুর্দান্ত কাজ করে চলছেন।  

গুরুতর রোগীদের সেবায় সর্বশেষ জ্ঞান ও প্রযুক্তি দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে এনেসথেসিওলজিস্টসদের প্রতি অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে এনেসথেসিওলজিস্টস সোসাইটির ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এনেসথেসিওলজিস্টস সোসাইটি কোভিড আইসিইউ ম্যানেজমেন্টে জাতীয় নির্দেশিকা প্রস্তুত করতে সহায়তা করেছে। তারা সারাদেশে আইসিইউ সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং করোনা রোগী ম্যানেজমেন্টে আইসিইউ চিকিৎসক ও স্টাফদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ২০০৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২০
এমইউএম/আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa