ঢাকা, শনিবার, ১৫ কার্তিক ১৪২৭, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

মন্ত্রীর জন্য তো ভিন্ন কবর হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২০
মন্ত্রীর জন্য তো ভিন্ন কবর হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি বলেছেন, আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়া করান। প্রশ্ন সহজ হলেও অনেকেই চাকুরির পরীক্ষায় গিয়ে কিছুই লিখতে পারছে না।

কিছুই যদি লিখতে না পারে চাকুরি কিভাবে হবে। চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নুন্যতম তো কিছু নিয়মনীতির প্রয়োজন রয়েছে। নিজের ভিত মজবুত না হলে আমি কেন, কোনো নেতাই চাকুরি দিতে পারবে না। কিছুটা লেখাপড়া জানতে হবে। অভিভাবকদের বলবো সন্তানরা স্কুল-কলেজে নিয়মিত যায় কিনা, লেখাপড়া করে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে স্থানীয় এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়েই কিন্তু দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়ন হচ্ছে, এছাড়া কোনো সরকারের সময় হয়নি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর হচ্ছে।  আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়বে, কিন্তু ভর্তির জন্য যে যোগ্যতার প্রয়োজন তা না থাকলে বাহিরের ছেলেরা এসে ভর্তি হবে। আমাদের এখানে গ্যাস আসবে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে, শিল্প-কারখানা হবে। সেই শিল্প-কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, কিন্তু যোগ্যতা না থাকলেও সেখানেও বাহিরের লোক এসে চাকুরি করবে। তাই রাগারাগি-মারামারি নয় বুঝিয়ে বলুন, যেন সন্তানরা লেখাপড়া করে। তাহলে আমি ইনশাআল্লাহ আপনাদের ছেলে-মেয়েদের চাকুরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি রাজনীতি নয়, জনগণের অর্থাৎ আপনাদের সেবা দেয়ার জন্য এসেছি।  অনেক ধরনের লোক আছে, তারা টিআর-কাবিখা’র গম চুরি করে। এটা গরীব মানুষের গম, এটা চুরি করা যে অন্যায় তা তারা কি বোঝে না। সব থেকে বড় কথা হলো আপনাদের টাকা চুরি করে যাবো কোথায়, মরলে তো সাড়ে তিনহাত মাটিতে দাফন করা হবে। মন্ত্রীর জন্য তো ভিন্ন কবর হবে না। মন্ত্রী আর সাধারণ মানুষ সবাই-ই কিন্তু সাড়ে ৩ হাত মাটিতে ঘুমায়।

এসময় তিনি আরো বলেন, বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকি সড়কের তালুকদারহাটে ৩৭.৯২ মিটার দৈর্থ্য যে সেতুটি করা হচ্ছে। এটি নির্মাণ শেষ হলে এখানাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়ে যাবে, অনেকের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেতুর কাজ যেন সঠিকভাবে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সঠিক কাজ না হলে সড়ক ও জনপদ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলবেন, তিনি ব্যবস্থা নিবেন। কারণ আপনার এলাকার ব্রিজ আপনাকে বুঝে নিতে হবে। ৫ বছর পরে ভেঙে গেলে দ্বিতীয়বার করা সম্ভব হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে ভোট চাইতে এসে নেহালগঞ্জের ব্রিজটা আমি করে দেয়ার কথা বলেছি। তখন ১ লাখ ভোট আপনারা দিয়েছিলেন কিন্তু তারপরও আমি ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। তবে ওই ১ লাখ ভোটের জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। গত ১০ বছরে অনেক অনেকভাবে চেষ্টা করেছে যাতে আমি বরিশাল ছেড়ে চলে যাই। যাতে করে এখানে লুটপাট করা যায়। কিন্তু আমি এখানে লুটপাট করতে আসিনি, এসেছি জনসেবা করতে।  যাতে এ এলাকার উন্নয়ন আমি করতে পারি।

তিনি বলেন, কথা অনুযায়ী অনেক চেষ্টা করে নেহালগঞ্জে ব্রীজ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ব্রীজ নির্মাণ হলে ওই এলাকার মানুষেরও দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌলশী মোঃ মাসুম খান, বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুনিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘন্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২০
এমএস/এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa