ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

ঠাকুরগাঁওয়ে নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট    | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
ঠাকুরগাঁওয়ে নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত প্লাবিত নিম্নাঞ্চল। ছবি: বাংলানিউজ

ঠাকুরগাঁও: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে সবকটি নদীর পানি বেড়ে গেছে। ফলে জেলার সদর উপজেলার ঢোলারহাট গুচ্ছগ্রামসহ ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

টাঙ্গন সেনুয়া ও শুক নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় অস্বাভাবিকহারে বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো। এসব এলাকার গ্রামীণ সড়কসহ বসতবাড়িতে পানি  ঢুকে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক শতাধিক মানুষ।

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের প্লাবিত এলাকায় কয়েক শতাধিক মানুষ তাদের পরিবার ও গবাদিপশু নিয়ে পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। তাদের উদ্ধার করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ২টি টিমসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কাজ করছে।

নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার আগ থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করেছে ওই এলাকার মানুষ। কয়েকদিন ধরে ২৪ ঘণ্টা টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভা ডিসি বস্তি এলাকার পারভিন আক্তার বলেন, নদীর পাশে বাড়ি হওয়ায় প্রতিবছর বন্যার সময় আমাদের বাড়িঘর পানিতে ডুবে যায়। কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি বেড়ে গেছে। পানি বাড়ার আগেই বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি আমরা।

পৌরসভা ফারাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আতাউর ইসলাম বলেন, দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি বেড়ে গেছে। নদীর পানি বাড়বে বুঝে আমরা আগে থেকেই ঘরের মালপত্র সরিয়ে রেখেছি।

প্লাবিত এলাকার মানুষকে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ও সব জেলা প্রশাসকসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবক দল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গন নদীতে ১০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

 ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কয়েকটি স্থানে রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃষ্টি না কমলে পানি আরও বাড়তে পারে। নদীভাঙন প্রবণ এলাকাগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে।
 
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম জানান, নদীর আশপাশের নিম্নাঞ্চলে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের উদ্ধার করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন ও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa