ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

আদিতমারীতে রাতের আঁধারে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৫৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
আদিতমারীতে রাতের আঁধারে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ  ঘিরে নেওয়া জায়গা। ছবি: বাংলানিউজ

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় রাতের আঁধারে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল ওহাব (৫০) নামে এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে দলবল নিয়ে জবর দখল করা জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন সমাজকর্মী আব্দুল ওহাব।

অভিযুক্ত আব্দুল ওহাব উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি সমাজসেবা অধিদফতের লালমনিরহাট শহর কার্যালয়ে ইউনিয়ন সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগে জানা গেছে, সর্দারপাড়া গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের চার ছেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বৈঠকে পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টন নামা করে নেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দীর্ঘ ১০/১৫ বছর ধরে স্ব স্ব অংশ ভোগদখল করে আসছেন তারা। তৃতীয় ছেলে মমিনুল ইসলাম প্রাপ্ত জমি থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর ৬ শতাংশ স্ত্রী সুলতানা পারভীন রুপালীকে দেনমোহরনা বাবদ হেবা দলিল করে দেন। ওই জমিতে টিনসেড ঘর তৈরি করেন রুপালী।

পৈত্রিক জমি স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ায় ছোট ভাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বড় ভাই সমাজকর্মী আব্দুল ওহাব। স্বামী পেশাগত কারণে বাইরে থাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন স্ত্রী সুলতানা পারভীন রুপালী। এ সুযোগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ৩০/৩৫ জন ভারাটে সন্ত্রাসী নিয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ঘরটি ভেঙে রাস্তায় ফেলে দেন আব্দুল ওহাব। বাধা দিলে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রুপালীকে লোহার রড, লাঠি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে বিবস্ত্র করেন। স্থানীয়রা ছুটে এসে সজ্ঞাহীন অবস্থায় রক্তাক্ত রুপালীকে উদ্ধার করে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।  

...এদিকে গৃহবধূ সুলতানা পারভীন রুপালী জমি উদ্ধারের জন্য আব্দুল ওহাবসহ চার জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিবদমান জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে জমির চার দিকে বেড়া দিয়ে ভেতরে ঘর নির্মাণ শুরু করেন আব্দুল ওহাব।

বাদী সুলতানা পারভীন রুপালী বলেন, প্রতিপক্ষ টাকার জোরে সন্ত্রাসীবাহিনী দিয়ে আমাকে পিটিয়ে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত করে। আমি সজ্ঞাহীন হলে তারা আমার ঘর ভাঙচুর করে রাস্তায় ফেলে দেয়। আমি সুস্থ হয়ে আদালতে গিয়েছি। আদালত নির্দেশ দিলেও তারা অমান্য করে জমি জবর দখলের চেষ্টা করছে। বাধা দিলে আমাদের সপরিবারে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তারা টাকার জোরে সবাইকে ম্যানেজ করে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।  

তাদের প্রতিবেশী ইদ্রীস আলী বলেন, জমিটির ওপর রুপালীর একটি ঘর ছিল। তা ওহাব দলবল নিয়ে ভেঙে দিয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ওই জমিটি বেড়া দিয়ে ঘেরা।

অভিযুক্ত আব্দুল ওহাবের স্ত্রী উম্মে কুলসুম ফেরদৌসী বলেন, রাত হোক বা দিনে হোক আমাদের জমি আমরা ঘিরে নিয়েছি। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) গুলফামুল হক গুলফাম বাংলানিউজকে বলেন, আদালতের নির্দেশে দুই পক্ষকে নালিশী জমিতে না যেতে নির্দেশ দিয়েছি। এরপরেও কেউ তা অমান্য করলে পুনরায় আদালতকে অবগত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa