ঢাকা, শনিবার, ১৫ কার্তিক ১৪২৭, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

ভাঙনের কবলে চরগোদাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
ভাঙনের কবলে চরগোদাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বগুড়া: বগুড়ায় ফের বেড়েছে যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি। যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাঙ্গালী নদীতে গেলো ২৪ ঘণ্টায় ১৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ দশমিক ৮০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি বেড়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে অনেক স্কুল।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান।  

জানা যায়, যমুনা নদীর পানি বাড়ার ফলে সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের চালুয়াবাড়ী, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কাজলা, বোহাইল, হাটশেরপুর ও সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং এসব এলাকার রোপা আউশ, মাশকলাই, মরিচ, স্থানীয় জাতের গাঞ্জিয়া ধানসহ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। পানি কমে গিয়ে আবার বাড়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

এদিকে জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বাঙ্গালী নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এ নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি বাড়ার ফলে উপজেলার নারচী ইউনিয়নের চরগোদাগাড়ী, গোদাগাড়ী, গণকপাড়া, গাছবাড়ী, হাটশেরপুর ইউনিয়নের চরবরুরবাড়ী, সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া, কুতুবপুর ইউনিয়নের চর মাছিরপাড়া, ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বাঁশহাটা এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকায় আতঙ্কে দিন কাটছে ওইসব এলাকার মানুষের।

উপজেলার চরগোদাগাড়ী এলাকায় নদী ভাঙনের কারণে চরগোদাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নিচের মাটি ধসে গিয়ে পানির স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে। ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ এখন নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে চরগোদাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বলেন, ২০০২ সালে নির্মিত বিদ্যালয় ভবনটি পাঁচ বছর আগে নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। এবছর নদী ভাঙনের কারণে ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এদিকে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরিভিত্তিতে কাজ করে বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ওই এলাকার নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। আগামী শুস্ক মৌসুমে নদী ভাঙনরোধে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, যমুনা নদীতে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। শুক্রবার সকাল ৬টার হিসাব অনুযায়ী নদীর পানি ১৬ দশমিক ৭৩ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ও পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে বাঙ্গালী নদীতে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৫ দশমিক ৮৫ মিটার। বর্তমানে এ নদীতেও পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ দশমিক ৮০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীর পানি কমতে শুরু করে আবারও ১৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
কেইউএ/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa