ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ভাওয়াল মির্জাপুর হাট

মো. রাজীব সরকার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ভাওয়াল মির্জাপুর হাট গাজীপুরে তুরাগ নদের পাড়ের ভাওয়াল মির্জাপুর হাট। ছবি: বাংলানিউজ

গাজীপুর: কালের বিবর্তে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর হাট। সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাইনশাইল এলাকায় তুরাগ নদের পাড়ে অবস্থিত এ হাট সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাওয়াল মির্জাপুর হাটের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

গাজীপুর সদরসহ আশপাশের জেলা থেকেও এ হাটে হাজার হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা-বেচা করতে আসেন। আগে বেশিভাগ হাটেই নদ-নদী ঘেঁষেই নির্দিষ্ট এলাকায় বটের ছায়ায় বসতো। ভাওয়াল মির্জাপুরের হাট তেমনি গড়ে উঠেছিল। তখন নদ-নদীতে নৌকা দিয়েই মানুষ চলাচল করতো বেশি। হাটবাজারে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য নৌপথেই ছিলো জনপ্রিয়। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নদ-নদীর উপর নির্মিত সেতু বা কালভার্টের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্য।  

শত বছরের রেওয়াজ ছিল সপ্তাহে নির্দিষ্ট কোনো দিনে হাট বসবে। হাটের দিন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তাদের সাপ্তাহিক কেনাকাটা করতেন। এখন আর গ্রামবাংলার এ চিরচেনা রূপ দেখা যায় না। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হাটবাজার। গাজীপুরের কড্ডার হাট, কারখানার হাট, বাঘিয়া হাট ও সাকাশ্বর হাট, কাশিমপুর হাটসহ বেশকিছু হাটে গ্রামবাংলার এ চিরচেনা রূপ দেখা যায় না। এর মধ্যে অধিকাংশের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ভাওয়াল মির্জাপুর হাটও।
গাজীপুরে তুরাগ নদের পাড়ের  ভাওয়াল মির্জাপুর হাট।  ছবি: বাংলানিউজ
তবে, ভাওয়াল মির্জাপুর হাটে এখনো নদ-নদী ও খাল-বিলের মাছ, কবুতর, বিভিন্ন জাতের কাঠ, দেশীয় ফল, শাকসবজি, ছোট নৌকা, গৃহপালিত পশু-পাখিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায়। বর্তমানে এ হাটে কবুতরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ হাটের চার পাশেই থাকে থৈথৈ পানি। হাটটি তুরাগ নদের পাড়ে হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষেই নৌকায় যাতায়াত করেন। তবে যেকোনো এলাকা থেকে সড়ক ও নৌপথে এ হাটে খুব সহজেই যাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হক জানান, বহু বছর ধরে তিনি ভাওয়াল মির্জাপুর হাট দেখে আসছে। এ হাট থেকে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনেন। সাপ্তাহিক এ হাটে প্রয়োজনীয় সবই পাওয়া যায়। তাছাড়া বাজারে টাটকা শাকসবজি পাওয়া যায়।

ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুসল্লী জানান, বাপ-দাদার আমল থেকেই এ হাট বসতে দেখছি। এ হাট ঐতিহ্যবাহী। আগে এ হাট সপ্তাহে তিনদিন বসতো। আগে হাটে প্রচুর কাঁঠাল, বাঁশ, আখ, মিষ্টি আলু, তরমুজ, পাটের আঁশ, ধান ইত্যাদি পাওয়া যেতো। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা-বেচার জন্য এ হাটে আসতেন। আগের তুলনায় এ হাটে এখন অনেক কম মানুষ আসেন।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৩৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
আরএস/ওএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa