ঢাকা, বুধবার, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের জন্য পর্যাপ্ত অভিযোজন তহবিল চায় টিআইবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের জন্য পর্যাপ্ত অভিযোজন তহবিল চায় টিআইবি ...

ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দাবিতে বৈশ্বিক পর্যায়ে স্কুলশিক্ষার্থীদের পরিচালিত আন্দোলন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ এর উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ‘বৈশ্বিক ক্লাইমেট অ্যাকশন দিবস’ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দূষণমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সারাবিশ্বের স্কুলশিক্ষার্থীদের নৈতিক এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

একইসাথে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অভিযোজন এবং প্রশমনের জন্য টিআইবি শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত অনুদানভিত্তিক তহবিলের দাবি জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রশমনে প্রাক্‌শিল্পায়ন যুগের তুলনায় তাপমাত্রা কমপক্ষে ২ ডিগ্রি ও ক্রমান্বয়ে তা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত হয়েছিল, তা উপেক্ষার কোনো সুযোগ নেই।

ড. জামান মনে করেন, বর্তমান কোভিড-১৯ সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের নামে শিল্পোন্নত দেশসমূহের উদ্যোগে গ্রিন রিকভারির প্রস্তাব করা হলেও প্রধান কার্বন-নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ এ ব্যাপারে উল্টো অবস্থান নেওয়ায় বৈশ্বিক গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টিআইবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের জন্য প্যারিস চুক্তিতে ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোভিড-১৯ উদ্ভূত সংকটের পাশাপাশি উপর্যুপরি বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সবুজ জলবায়ু তহবিল থেকে অভিযোজন এবং প্রশমন বাবদ প্রাপ্য অনুদান প্রদানে শিল্পোন্নত দেশসমূহকে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পথ নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এবং সেক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে, বাংলাদেশের ও প্রতিশ্রুত প্রশমন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিবর্তে উল্টো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো প্রকৃতি ও পরিবেশ বিধ্বংশী কার্যক্রম গ্রহণ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলমান অতিমারির সুযোগ নিয়ে শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট চরম আকার ধারণ করবে বলে মনে করে টিআইবি। তাই শিল্পোন্নত রাষ্ট্রসমূহের প্যারিস অঙ্গীকার মেনে জলবায়ু প্রশমনে অনতিবিলম্বে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে প্রতিশ্রুত তহবিল নিশ্চিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
এসই/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa