ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

পাবনায় চিকনাই নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সেতু নির্মাণ 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০১৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
পাবনায় চিকনাই নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সেতু নির্মাণ  পাবনায় চিকনাই নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সেতু নির্মাণ। ছবি: বাংলানিউজ

পাবনা: পাবনা চাটমোহর উপজেলায় চিকনাই নদীর ওপর সেচ্ছাশ্রমে ৫৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সেতু নির্মাণ করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। জেলার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালি কান্দিপাড়া এলাকায় এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

গ্রামের কেউ দিয়েছেন বাঁশ, কেউ বা টাকা। পুরো গ্রামবাসী প্রায় এক মাসের স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর ওপর তৈরি করলেন অস্থায়ী বাঁশের সেতু। সেতুটি তৈরির ফলে ১২টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হলো।

সরেজমিন জানা গেছে, পাবনার চাটমোহর উপজেলার এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকায় কাটাখালি কান্দিপাড়া গ্রাম অবস্থিত। চিকনাই নদীর ওপারে আরেকটি গ্রামের নাম ‘খৈরাশ’। বর্ষাকাল এলেই খৈরাশ গ্রামটি চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই গ্রামে প্রবেশের কোনো পাকা সড়ক নাই। কাটাখালি কান্দিপাড়া ও খৈরাশ গ্রামের আশেপাশেই রয়েছে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ও চান্দাই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের বেশিরভাগ যোগাযোগ চাটমোহর কেন্দ্রিক। ওই এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

কান্দিপাড়া (কাঠগড়া ব্রিজ) এলাকায় চিকনাই নদীর ওপর  কোনো সেতু না থাকায় জনদুর্ভোগের শিকার হয়ে থাকেন লক্ষাধিক মানুষ। বর্ষাকাল এলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পারাপার হয়ে থাকেন সবাই। কৃষি প্রধান এলাকায় যানবাহনের অভাবে মাঠ থেকে ফসল আনা-নেয়া বা কেউ অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে পারেন না। অসুস্থ রোগীদের পল্লী চিকিৎসকরাই একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি।

এমতাবস্থায় গত এক মাস আগে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এলাকার সাধারণ মানুষ বাঁশের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসেন সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। বাদ যাননি নারীরাও। তারাও সাধ্য মতো সহযোগিতা করেন সেতু নির্মাণ কাজে।

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি কাঠগড়া এলাকায় সেতু নির্মাণ হবে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও  সেতু আর হলো না। এলাকার এমপি, চেয়ারম্যান-মেম্বার থেকে শুরু করে সকলের  কাছেই আমরা বলেছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। শেষে আমরাই নিজেদের অর্থায়নে আর  গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে ৫৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ করেছি। এই বাঁশের সেতুটি তৈরির ফলে নদী ওই পারের ১২টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হলো। স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের এখন আর নৌকার জন্য অপেক্ষা করেতে হবে না।

স্থানীয় ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবীর উদ্দিন মোল্লা বাংলানিউজকে জানান, কাঠগড়া এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে বহুবার বিভিন্ন দফতরে গিয়েছি। আমিও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি। তবে এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ বাংলানিউজকে জানান, এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে খুব শিগগিরই সেখানে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্ঠ অধিদপ্তর বিষয়টির প্রতি নজর দিলে অবশ্যই সেখানে সেতু নির্মাণ হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০০১৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa