ঢাকা, বুধবার, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বন্যা দুর্গতরা

ছোটন সাহা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বন্যা দুর্গতরা

ভোলা: এখনো চারদিকে বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি। দেখেই বোঝা যায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব ঘর-বাড়ি।

যার ক্ষতচিহ্ন এখনো পড়ে রয়েছে। একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্তরা।

গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে আবার জোয়ারের পানিতে ডুবে যাচ্ছে ওইসব এলাকার ঘরগুলো। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের বানভাসী মানুষেরা।

এ চিত্র ভোলা সদরের বন্যা দুর্গত এলাকার বলরাম শুড়া এলাকার। নদীর তীরঘেষা নাছির মাছি মৎস্য ঘাট সংলগ্ন ওই গ্রামের শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু বলরাম শুড়া নয়, একই অবস্থা গঙ্গাকীর্তি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের। জোয়ারের পানিতে বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের।

সরেজমিনে বলরাম শুড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কেউ নতুন করে ঘর মেরামতের চেষ্টা করছেন। কেউবা ঘরে ভিটা রক্ষার চেষ্টা করছেন। উঠানে পানি জমে রয়েছে, দেখেই বোঝা যাচ্ছে জোয়ারে ডুবে গিয়েছিলো ঘর-বাড়ি। জোয়ারের পানি উঠে বার বার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি তুলতে গেলে ছুটে আসেন মাহমুদা বেগম নামে এক নারী। তিনি তার ছেলের ভাঙা ঘর দেখিয়ে বলেন, সাত মাস আগে এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ঘরটি বানিয়েছিল। কিন্তু এক মাস আগে বন্যায় ঘরটি ভেঙে গেছে। টাকার অভাবে ভিটা ছেড়ে দিয়েছে। এখন অন্য জায়গায় ঘর ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে।

মনজুর স্ত্রী লাইজু বেগম বাংলানিউজকে বলেন, দুই মেয়ে নিয়ে ছোট ওই ঘরটিতে থাকতাম, কিন্তু বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। ঘর ছেড়ে অন্য এলাকায় থাকি। আমরা কোনো সাহায্য পাইনি।
 
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মিনারা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, কিছুদিন আগের বন্যায় ঘর ভেঙে গেছে সেই ঘর এখনো তুলনে পারিনি। উচু বাঁধের পাশে জীর্ন ঘরে বসবাস করে আসছেন বিবি খাদিজা ও তার পরিবারের সদস্যরা। বন্যায় ক্ষতি হওয়ায় নতুন করে তা মেরামতের চেষ্টা করছিলেন।

খাদিজার স্বামী নুরুল হক বাংলানিউজকে জানান, বন্যায় ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু আমরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি। বার বার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। যারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সবাইকে সহযোগিতা করা হবে। কেউ বাদ যাবেন না।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa