ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

আতরের চেয়েও মূল্যবান ‘আগর উড’

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯২৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০
আতরের চেয়েও মূল্যবান ‘আগর উড’

মৌলভীবাজার: আগর থেকে আতর। অর্থাৎ আগর গাছ থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তৈরি হয় আতর।

এটি সুগন্ধি জাতীয় তরল পদার্থ। কিন্তু এর চেয়েও মূল্যবান ‘আগর উড’ বা আগর কাঠ। স্থানীয় ভাষায় এটাকে ‘মাল’ বলা হয়।  এ কাঠ সরাসরি আগুনের সংস্পর্শে জ্বলে ওঠে এবং ধোঁয়া ছাড়াই চারদিকে সুগন্ধ ছড়ায়।

তবে আমাদের দেশে এর প্রচলন তেমন নেই।  মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি আগর কাঠের চাহিদা বেশি। প্রতি বছর এ কাঠ বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, আগর গাছ কেটে ‘আগর’ বা ‘আগর উড’ বা ‘মাল’ সংগ্রহে ব্যস্ত সজীব আহমেদ। তিনি সুজানগরে অবস্থিত মেসার্স মরিয়ম আগর আতর ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক।

এ বিষয়ে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এই আগর প্রাকৃতিকভাবে হয়েছে। এই গাছে আতর হওয়ার জন্য পেরেক মারতে হয়নি। আগর পোড়ালে সুগন্ধ ছাড়ায়।  

আগর উড সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আগর গাছের ওপরের সাদা আবরণ সরিয়ে ভেতরের কালো কাঠ সংগ্রহ করা হয়। গাছ কাটার পর সাদা কাঠ ও কালো কাঠ প্রাথমিকভাবে আলাদা করা হয়। পরে কালো কাঠে লেগে থাকা সাদা কাঠ ফেলে দেওয়া হয়। বাটালি দিয়ে ধীরে ধীরে কাজটি করতে হয়। এরপর আর কোনো কাজ নেই। এটিই আসলে ‘আগর উড’ নামে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যে এই কাঠই সরাসরি বিক্রি হয়।

অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবেই হোক আর গাছে পেরেক মেরেই হোক, আগর গাছের কালো হয়ে যাওয়া অংশ থেকেই কেবল সুগন্ধি পাওয়া যায়। এই কালো অংশ থেকেই তৈরি হয় দামি আতর।  

আগর কাঠের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, এই কাঠ আমাদের দেশে বিক্রি হয় না। এজেন্সির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যায়। আরবে এটা খুব জনপ্রিয়।  একটি বাটিতে আগর কাঠ রেখে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তখন চারিদিক সুগন্ধে ভরে যায়। সাধারণ কাঠের মতো এ কাঠ থেকে ধোঁয়া বের হয় না। কয়েলের মতো সুগন্ধ ছড়িয়ে সুন্দরভাবে অনেকক্ষণ ধরে জ্বলতে থাকে।

‘আগর উড’ বিক্রি এবং দর-দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কেজি হিসেবে আগর উড বিক্রি করে থাকি। আমাদের এখানে বড় ডিলার আছে। আমরা যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আগর গাছ কিনে অনেক কষ্ট করে গাছের কালো কাঠ অংশ আলাদা করি। এরপর ডিলারের কাছে পৌঁছে দিই। তারা সৌদি আরবে রফতানি করেন।  

তিনি জানান, প্রাকৃতিক আগর হলে দাম বেশি পাওয়া যায়। গাছে পেরেক মেরে তৈরি আগরের দাম একটু কম। এক কেজি আগর কাঠ সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।  এটা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করে আগর গাছের ভেতরের মাল (কালো কস) কেমন, সেটার ওপর।

সাধারণত দুই হাত একসঙ্গে করতে পারলে এটাকে এক বেড় (প্রস্ত) বলে। এক বেড় থেকে পাঁচ বেড় বা সাত বেড় পর্যন্ত হয় আগর গাছ। উচ্চতায় পাঁচ ফুট থেকে ২০-২৫ ফুট পর্যন্ত থাকে। এক বেড় এবং ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার গাছ সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আসলে গাছ থেকে আইডিয়া করতে হয় এর ভেতরে কেমন ‘মাল’ (কালো কস) হবে। কোনো কোনো গাছ তুলনামূলক ছোট হলেও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, সারা বছর গড়ে আমরা ১২ বা ১৪ কেজি আগর উড সংগ্রহ করি। গাছের সরবরাহ বেশি হলে সংগ্রহও বেড়ে যায়। আমাদের এখানে চার-পাঁচজন শ্রমিক দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন। তারা প্রতিদিন নয়-দশ ঘণ্টা করে কাজ করেন ৩৫০ টাকা মজুরিতে।

বর্তমানে আগর কাঠের চাহিদা বেশি এবং দামও আতরের চেয়ে বেশি বলে জানান সজীব আহমেদ।

আরও পড়ুন...গাছের বুকে পেরেক ঠুকে জমানো হয় সুগন্ধি

বাংলাদেশ সময়: ০৯২১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০
বিবিবি/টিএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa