ঢাকা, বুধবার, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার আহ্বান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২৪৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০
বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার আহ্বান

ঢাকা: বাংলাদেশের অর্থনীতি যে দু’টি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে তার অন্যতম রেমিট্যান্স। আর এ রেমিট্যান্স আসে অভিবাসী শ্রমিকদের মাধ্যমে।

তাই দেশে এবং বিদেশে তাদের সঠিক মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি আইনী সহায়তা ও বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার, ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।  

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অভিবাসন এবং অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব: পুনরেকত্রীকরণ এবং কাজে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন (দেশে ও বিদেশে)’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।  

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধে শরীফুল ইসলাম হাসান বলেন, বিশ্বের ৮৪টি দেশে প্রায় এক কোটি ২৭ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতি আজকের অবস্থানে। কিন্তু অভিবাসী নানা ধরণের হয়রানির শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসছেন। কোভিড-১৯ সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছেন। এছাড়া এ সময়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক বিদেশ যেতে পারেননি। বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে ডাটাবেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ফেরত আসা শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট কোন ডাটাবেস নেই। ফেরত আসা শ্রমিকরা দেশে এসেও প্রয়োজনীয় লিগ্যাল সাপোর্ট পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যত শ্রমিক বিদেশ যাচ্ছে তার প্রায় অর্ধেক অদক্ষ যার ফলে শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত কাজ এবং প্রাপ্ত মজুরি পাচ্ছেন না। এছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর খরচ বেশি হলেও সে তুলনায় শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বিদেশে কর্মসংস্থান অনেক কমেছে। শ্রমিকদের জন্য স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। ফেরত আসা শ্রমিকদের সমাজে সহজে আত্মীকরণে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সময় নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মো. শহীদুল আলম (এনডিসি) বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশের শ্রমবাজারে ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হলেও প্রায় ৭ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গমন করছেন। কিন্তু দক্ষ শ্রমিক কম। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। সরকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান করছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কর্মসংস্থানের বিষয়টি যুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।  

বিদেশে মিশনের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে প্রশিক্ষিত জনবল পাঠানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারের জন্য সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যারা বিদেশে শ্রমিক পাঠাবেন তাদের কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনা প্রয়োজন। এছাড়া প্রত্যাবাসী শ্রমিকদের তথ্য অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়ে জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করলে তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কোভিড-১৯ সময়ে অভিবাসী শ্রমিকরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন উল্লেখ করে ড. সি আর আবরার বলেন, সরকারি নিয়ম কানুন মেনেই শ্রমিকরা বিদেশ গেছেন সুতরাং তারা ফিরে আসার ক্ষেত্রে ন্যায্য পাওনা পাচ্ছেন কি না সেটি সরকারসহ সব পক্ষকেই জোরালোভাবে দেখতে হবে। কলোম্বো প্রসেস সহ আন্তর্জাতিক চুক্তিসমুহ বিবেচনায় নিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য দাবীর বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে জোরালোভাবে তুলে ধরার দাবি জানান তিনি। অভিবাসী শ্রমিকদের মর্যাদার বিষয়টি জোর বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি খাতের প্রণোদনার মতো অভিবাসী শ্রমিকদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ল্যাটিশিয়া উইবেল রবার্টস বলেন, আইএলও’র উদ্যোগে বিদেশ ফেরতদের নিয়ে সাসটেইনেবল রিইনটিগ্রেশন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি সফল হলে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে সেখানেও রিইনটিগ্রেশন প্রকল্পকে যুক্ত করা হবে। উদ্যোক্তা প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যে সব বিজনেস মডিউলকে রাখা হবে বিদেশফেরত শ্রমিকরা সেগুলো থেকে তাদের প্রয়োজনীয়টি বেছে নিতে পারবেন।

বক্তরা বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন মান সুরক্ষায় আইন এবং নীতি সংশোধনসহ আমাদের নীতি পরিকল্পনাগুলোকে বৈশ্বিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে হবে। কোভিডের কারণে বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে যারা কাজ হারিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। এজন্য সরকারকে তহবিল বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম কমাতে হবে। যারা ফিরে আসবেন তাদের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়টিও ভেবে দেখার আহ্বান জানান তারা।  

বিলস্ চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সিরাজের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম হেড শরীফুল ইসলাম হাসান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুল আলম (এনডিসি)। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেশন মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) নির্বাহী পরিচালক ড. সি আর আবরার, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম-এসএনএফ এর আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন, বিল্স যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, আইএলও ঢাকার মাইগ্রেশন প্রজেক্ট চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার লেটেশিয়া ওয়েবেল রবার্টস প্রমুখ।  

বাংলাদেশ সময়: ০২৪৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ 
জিসিজি/এমআরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa