ঢাকা, বুধবার, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

সেইদিনের ভয়াবহতার চিত্র রয়েছে কৃষ্ণপুরবাসীর স্মৃতিতে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট     | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০
সেইদিনের ভয়াবহতার চিত্র রয়েছে কৃষ্ণপুরবাসীর স্মৃতিতে আলোচনা সভায় এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। ছবি: বাংলানিউজ

হবিগঞ্জ: একাত্তরে পাকিস্তানিদের বর্বরতা থেকে রক্ষা পায়নি ছোট্ট শিশু। নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে তারা কেড়ে নিয়েছিল বাঙালি মা-বোনদের ইজ্জ্বতও।

খুচিয়ে-খুচিয়ে মেরেছে অসহায় মানুষদের। তাদের ব্রাস্ট ফায়ারে স্থানে স্থানে পড়েছিল লাশের স্তুপ। সেইদিনের সেই ভয়াবহতার চিত্র রয়েছে কৃষ্ণপুরবাসীর স্মৃতিতে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির।  

এ সময় কৃষ্ণপুর বধ্যভূমিটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। বক্তারা কৃষ্ণপুর গণহত্যার দিনে নিহতদের শহীদের মর্যাদা দিয়ে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

মুক্তিযোদ্ধা অমরেন্দ্র লাল রায়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- লাখাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিউল আলম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম প্রমুখ।

এর আগে গণহত্যায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করা হয়। পরে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত বধ্যভূমির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি আবু জাহির।

একাত্তরের ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে একটি স্পিডবোট ও ৮/১০টি বাওয়ালী নৌকায় করে হানাদারবাহিনী কৃষ্ণপুরে আসে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় মোড়াকরি গ্রামের লিয়াকত আলী, বাদশা মিয়া, ফান্দাউকের আহাদ মিয়া, বল্টু মিয়া, কিশোরগঞ্জের লাল খাঁ, রজব আলী, সন্তোষপুর গ্রামের মোর্শেদ কামাল ওরফে শিশু মিয়াসহ অন্তত ৫০ রাজাকার। সেদিন পাকিস্তানি বাহিনী অন্তত ১৩১ জন পুরুষকে স্থানীয় কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে। পরে আগুন দিয়ে গ্রামের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় ও লুটপাট করে।  

এছাড়া গ্রামের অনেক নিরীহ নারীদের ওপর নির্যাতন চালায়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। হানাদারদের হাত থেকে বাঁচতে গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ পুকুরে কচুরিপানার নিচে আশ্রয় নেন। কয়েকজন পড়ে থাকেন মৃতের ভান ধরে। হানাদাররা চলে গেলে মরদেহগুলো নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে গ্রাম ত্যাগ করেন তারা। কপালগুণে প্রাণে রক্ষা পান গোপাল রায়, প্রমোদ রায়, নবদ্বীপ রায়, হরিদাস রায় ও মন্টু রায়সহ আরও কয়েকজন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa