ঢাকা, বুধবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

শুধু লাশের অপেক্ষায় দু'টি পরিবার

বদরুল আলম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
শুধু লাশের অপেক্ষায় দু'টি পরিবার নিহত শাহীনের ছবি হাতে তার বাবা মা (বায়ে)/ মমিনের পরিবারের সদস্যরা (ডানে)

হবিগঞ্জ: ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন সবসময় টানতো শাহীনকে। কিন্তু কে জানত এই স্বপ্নের দেশে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে মরতে হবে তাকে! 

সমুদ্র পাড়ি, প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি।

তারপরও যে যেতে হবে স্বপ্নের দেশ ইউরোপে। পূরণ করতে হবে স্বজনদের চাহিদা। এমন বিশ্বাস নিয়ে দশ বছর আগে স্থলপথে গ্রীস পাড়ি জমিয়েছিলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কামড়াখাই গ্রামের আব্দুল মমিন (৪০)। চার বছর আগে একইভাবে সেখানে গিয়েছিলেন একই গ্রামের শাহীন মিয়াও (২২)।

গত সোমবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের আসপোগিরগো এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারা যান এ দু’জন। দেশে খবর এলে দু’টি পরিবারে পড়ে কান্নার রোল। ভেঙ্গে গেছে তাদের সকল আশা, সকল স্বপ্ন। এখন শুধু মরদেহগুলো একনজর দেখার দুরাশায় মগ্ন তারা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহীনের বাড়িতে দেখা গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ঘরের এক কোনে ছেলের ছবি হাতে বসে আছেন বাবা নূর হোসেন। বিছানায় বসে কান্না করছিলেন মা। বলছিলেন, আমার ছেলে ইউরোপে যাওয়ার জন্য পাগল ছিল। এই স্বপ্নই তার কাল হবে জানলে, যেতে দিতাম না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের মরদেহটি দেশে এনে দিতে সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছিলেন তিনি।

একইদিন নিহত আব্দুল মমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মারা যাওয়ার খবর শুনে ভেঙ্গে পড়েছেন স্ত্রী ও তিন সন্তান। আত্মীয়-স্বজন দেখতে এলেও কারো সাথে কথা বলতে পারছেন না তারা। ১২ বছর বয়সী সন্তান রায়হান বার বার চিৎকার দিয়ে উঠছিল, ‘ও আল্লাহ গো, তুমি আমার বাপরে আইনিয়া দেউ গো’ বলে। হাউমাউ করে কান্না করছিলেন মমিনের স্ত্রীও।

নিহতদের নিকটাত্মীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রফিক বাংলানিউজকে জানান, শাহীন ও মমিনের পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অতটা সবল না। গ্রীস থেকে পাঠানো উপার্জনের মাধ্যমেই দু’টি সংসার চলতো। ছোটদের লেখাপড়ার খরচ বহন হতো। এরা দু’জন মারা যাওয়ায় দু’টি পরিবার চালানোর মতো আর কেউ রইলো না।  

গুলিতে নিহত মমিনের মা বাংলানিউজকে বলেন, অনেক আশা নিয়ে আমার ছেলে বিদেশে গেলেও তাকে গুলি করে মারা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। পাশাপাশি শেষবারের মতো একনজর ছেলের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি সরকারের প্রতি।

শেখ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, মমিন ও শাহিনের মরদেহ গ্রীসে বাঙালি কমিউনিটি লিডারদের জিম্মায় রয়েছে। দেশে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে আসপোগিরগো এলাকায় একটি কন্টেইনারে পাহাড়াদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন আব্দুল মমিন। সম্প্রতি মমিনের সেখানে কাজে যোগ দেন শাহীনও। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা একজনের মাথায় এবং অন্যজনের গলায় গুলি করে হত্যা করে।

পূর্বের সংবাদ>> গ্রিসে ২ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
এমকেআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa