ঢাকা, বুধবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

প্রথম দিনেই ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড়

এস. এস শোহান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
প্রথম দিনেই ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড়

বাগেরহাট: করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বাগেরহাট যাদুঘর। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রথম দিনেই ভিড় ছিল মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এতিহাসিক এ স্থাপনায়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল হতে বিভিন্ন এলাকা থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে ষাটগম্বুজ মসজিদে। তবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। যার ফলে এক সাথে অনেক দর্শনার্থী দেখা যায়নি ষাটগম্বুজ এলাকায়। তারপরও দীর্ঘদিন পরে ষাটগম্বুজে স্ব-শরীরে প্রবেশ করতে পেরে খুশি দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থী প্রবেশ করায় আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা ও ষাটগম্বুজ কর্তৃপক্ষ।

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় প্রধান ফটকের মধ্যে টিকিট কাউন্টার খোলা হয়্। টিকিট কেটে বিভিন্ন জেলার দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেন। ভেতরে প্রবেশ করে শিশুরা বিভিন্ন রাইডে চড়ে। প্রধান ফটক থেকে ঢুকেই ডান পাশে অবস্থিত বাগেরহাট যাদুঘরে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখেন দর্শনার্থীরা। তারপরে ষাটগম্বুজ মসজিদের ভিতর ও বাইরের নয়নাভিরাম টেরাকোটা উপভোগ করেন তারা। ষাটগম্বুজ মসজিদ চত্বরে ফোটা নানা রঙের ফুল দর্শনার্থীদের আরও বেশি মুগ্ধ করেছে। দীর্ঘদিন পরে এদিন প্রথম ষাটগম্বুজ মসজিদ উন্মুক্ত হওয়ায় এক নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে এক ধরণের উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

দর্শনার্থীরা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ষাটগম্বুজ বন্ধ ছিল। আজ সকালে খোলায় আমরা এখানে এসেছি। প্রথমে গেটের সামনে রাখা হাত ধোয়ার পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধুয়েছি। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছি। মাস্ক ছাড়া কাউকে ষাটগম্বুজের ভিতর প্রবেশ করতে দেয়নি। এটা খুবই ভাল লেগেছে আমাদের।

গাজীপুর থেকে আসা হৃদয় হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ঘরবন্ধি থাকায় বাইরে ঘুরতে বের হয়েছি। সকালে ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গন ঘুরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখে খুবই ভাল লাগছে। প্রবেশ গেটে এসেই জানতে পারলাম যে আজ প্রথম খুলেছে এই বিশ্ব ঐতিহ্য। ষাটগম্বুজে প্রবেশ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

মাগুরা থেকে আসা উম্মে কুলসুম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে ছিল ষাটগম্বুজে আসব। কাল রাতে নিউজ দেখলাম বুধবার সকাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য ষাটগম্বুজ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। নিউজটি দেখেই সিদ্ধান্ত নিই সকালে বাগেরহাট যাব ষাটগম্বুজ দেখতে। তাই চলে এলাম। ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বাগেরহাট যাদুঘর দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। সত্যিই স্থাপত্য শিল্পের অনন্য এক নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ।

স্থানীয় লুৎফর রহমান বলেন, আসলে ষাটগম্বুজ মসজিদ আমাদের একটি গর্বের জায়গা। করোনা পরিস্থিতিতে মার্চ থেকে এখানে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। আমাদের মনের মধ্যে একটু চাপা কষ্ট ছিল। আজ অনেক ভাল লাগছে।

স্থানীয় সরকারি পিসি কলেজ শিক্ষার্থী ওসমান, সাব্বিরসহ কয়েকজন বলেন, আমরা নিজ জেলা বাগেরহাটকে ভালবাসি। ভালবাসি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকেও। গতকাল রাতেই ফেসবুক ও অনলাইনে দেখলাম বুধবার থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদ খুলবে। সকালেই চলে এসেছি। ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে থেকে ১০টার সময় প্রবেশ করেছি। ষাটগম্বুজ মসজিদে প্রবেশ করে অনেকদিন পরে মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি নেমে এসেছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান গোলাম ফেরদাউস বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ১৯ মার্চ থেকে বন্ধছিল প্রাণের ষাটগম্বুজ মসজিদ। সংস্কৃত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আজকে আমরা ষাটগম্বুজ মসজিদ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। প্রথম দিনেই অনেক দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করব দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ষাটগম্বুজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন। সকাল দশটা থেকে ৪টা ৪৫ পর্যন্ত ৫ শতাধিক দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে ষাটগম্বুজ মসজিদে। বিকেল ৫টার পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবেন সাধারণ দর্শনার্থীরা বলে জানিয়েছেন কাস্টোডিয়ান গোলাম ফেরদাউস।

বাংলাদেশ  সময়:   ১৭৩৫ ঘণ্টা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
এমকেআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa