ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

কানাডায় পাঠানোর নামে অর্থ আদায়, অতঃপর কার্যালয় বদল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬২৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
কানাডায় পাঠানোর নামে অর্থ আদায়, অতঃপর কার্যালয় বদল ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে কানাডা ও দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি পাঠানোর নামে কৌশলে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। এক পর্যায়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষের টাকা নিয়ে বদলে ফেলা হতো কার্যালয়ই।

নতুন কোনো এলাকায় কার্যালয় চালু করে চলতো একই প্রতারণা।  

রাজধানীর বনানীতে ‘ড্রিম ভিসা কনসালটেন্সি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অভিনব এ প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)-৩ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

অভিযানকালে প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ছয় জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা দিয়েছেন আদালত।  

আটক ছয়জন হলেন- প্রতিষ্ঠানটির মালিক তোফাজ্জল হোসেন, জুই আক্তার, সানজিদা, সাদিয়া, নাইমা জুম ও স্বপ্না আক্তার।  

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।  

পলাশ কুমার বসু বাংলানিউজকে জানান, ওই প্রতিষ্ঠানটির বিদেশে লোক পাঠানোর কোনো লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র ছিল না। তারপরও তারা তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা ও ফিজিতে লোক পাঠানোর কথা বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল। আর আগ্রহীরা তাদের নির্ধারিত কার্যালয়ের ঠিকানায় এলে নানাভাবে কাউন্সিলিং করা হতো এবং কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হতো টাকা। চক্রটি নির্দিষ্ট সময় পরপর কার্যালয় বদল করতো। ফলে ভুক্তভোগীরা তাদের আর খুঁজে পেতেন না।

তিনি জানান, ওই কার্যালয়টিতে অভিযানের সময় ৩২টি পাসপোর্ট, ভুয়া চুক্তিপত্র, ফিজিতে পাঠানোর ভুয়া ডিমান্ড লেটার জব্দ করা হয়েছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তোফাজ্জলকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচজনের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বনানীর ‘ফাতেমা ওভারসিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কবির হোসেন ও সহযোগী সোহাগকে আটক করা হয়। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু আরও জানান, সম্প্রতি এক তরুণীকে দুবাইয়ের একটি অভিজাত হাসপাতালে আয়ার চাকরি দেওয়ার কথা বলে সৌদি আরবে পাঠায় মানবপাচারের ওই চক্রটি। সেখানে ওই তরুণীকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই তার ওপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু হয়। এমনকি কয়েক মাস কাজ করলেও তাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযানটি চালানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০৬২০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
পিএম/এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa