ঢাকা, রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৪২ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০২০
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন

ঢাকা: জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।  

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব মেনে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন জানায়, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতির পিতার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এসময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা, বঙ্গমাতাসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে মিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
 
এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানটিতে।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, জাতির পিতার সংগ্রাম ও ত্যাগ বিশ্ব মানবতাকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পথ দেখাবে।  

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো বাংলায় দেওয়া জাতির পিতার ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ পৃথিবীর সব দেশ এজেন্ডা ২০৩০ এর ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে আমরা এর অধিকাংশের কথাই খুঁজে পাই।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে দেওয়া জাতির পিতার সেই ভাষণে শিক্ষা, সাম্য এবং সম্মানজনক জীবন ও জীবিকার কথা রয়েছে। তিনি জাতীয়তার সীমা পেরিয়ে আন্তর্জাতিকতাকে স্পর্শ করেছেন। তার এ ভাষণে ফুটে উঠেছে বিশ্ব মানবতার আশা আকাঙ্ক্ষা। তিনি শান্তির কথা বলেছেন, মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন, বহুপাক্ষিকতার কথা বলেছেন, উন্নত বিশ্ব ব্যবস্থার কথা বলেছেন, মানুষের ন্যায় সঙ্গত অধিকারের কথা বলেছেন। এমন ভাষণ কেবল তার মতো একজন বিশ্বনেতার পক্ষেই দেওয়া সম্ভব।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটসহ জাতির পিতার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন মিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বক্তব্যের পাশাপাশি ১৫ আগস্ট স্মরণে কবিতা পাঠ করা হয়। ১৫ আগস্টের এ শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আলোচকরা।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০২০
টিআর/এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa