ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

সুজন হত্যা মামলার সর্বশেষ পলাতক আসামি গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০২০
সুজন হত্যা মামলার সর্বশেষ পলাতক আসামি গ্রেফতার

ঢাকা: রাজধানীর দক্ষিণ রাজারবাগের চাঞ্চল্যকর সুজন হত্যা মামলার সর্বশেষ পলাতক আসামি শেখ আলমগীর (বাবু) ওরফে কালা বাবুকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই-উত্তর)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর), ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওসমান গণি বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআই জানায়, ২০১১ সালের ১৮ মার্চ রাজধানীর দক্ষিণ রাজারবাগের বাগপাড়া শেষমাথা খাল থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভিকটিমের বাবা এ ঘটনায় সবুজবাগ থানায় একটি মামলা করে। ৭ বছর মামলাটির সুরাহা না হওয়াতে মামলাটি পিবিআই'র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লার লাকসাম থেকে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি আসমা আক্তার ইভা (৩২) ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ১ মার্চ তার দুই ভাই আরিফুল হক ওরফে আরিফ (৩৪) ও রানা ওরফে বাবুকে (২৪) পিবিআই গ্রেফতার করে। এছাড়াও আসামি ফজলু ওরফে কুটিকে ১০ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়।

ওসমান গণি জানান, পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) এর একটি দল (১২ আগস্ট) চাঞ্চল্যকর সুজন হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িত আসামি শেখ আলমগীর ওরফে কালা বাবুকে গ্রেফতার করেছে। আসামিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।  

জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পিবিআই’র কর্মকর্তা জানান, ২০০৮ সালে ইভার সঙ্গে সুজনের বিয়ে হয়। পরে ২০০৯ সালে ডিভোর্স হয়। সুজন ইভাকে খুব ভালোবাসতেন। তাই ডিভোর্সের পরও বাগপাড়ায় ইভার সঙ্গে দেখা করতে যেত সুজন। আর এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি ইভার বড় ভাই আরিফ এবং ইভার প্রেমিক ফাইজুল। ইভার সঙ্গে দেখা করা নিয়ে আরিফ এবং ফাইজুলের সঙ্গে সুজনের একাধিকবার তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ২০১১ সালের ১৪ মার্চ ফাইজুল তার বন্ধু কুটি ও কালা বাবুকে সঙ্গে নিয়ে ইভার বাসার সামনে বালুর মাঠে বসে সুজনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।  

পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন সন্ধ্যার সময় আরিফ তাদের বাসার পাশে চায়ের দোকানে একটি সাদা পলিথিন ব্যাগ নিয়ে ফাইজুলের অপেক্ষা করছিল। পরে ফাইজুল একটি লাঠি নিয়ে আরিফের কাছে আসলে তারা বাগপাড়া শেষমাথা খালের পাশে যায়। কিছুক্ষণ পর কালা বাবুও সেখানে আসে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুটি সুজনকে খালপাড়ে ডেকে নিয়ে আসে। কথাবার্তার এক পর্যায়ে ফাইজুল পেছন থেকে সুজনের দুই হাত আটকে ধরে আর তখনই কুটি পলিথিন ব্যাগ বের করে সুজনের মাথার ওপর দিয়ে তার মুখ চেপে গিট বেধে দেয়। আর আরিফ লাঠি দিয়ে সুজনকে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে সুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে তারা সুজনের মরদেহ খালে ফেলে দেয়।

পিবিআইর তদন্ত শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত আসামিদের রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হবে বলেও জানান ওসমান গণি।

বাংলাদেশ সময়: ০১২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০২০
এমএমআই/জেআইএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa