ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

কুড়িগ্রামে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫ জন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০২০
কুড়িগ্রামে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫ জন

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের দাশেরহাট আরডিআরএস বাজার এলাকায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে।  

আহত প্রাইভেটকার চালকের ভাতিজা ওয়াসিমের (১৩) বিকেলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের সরকার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত আকবর হোসেন ও তার স্ত্রী-ছেলেকে।

এর আগে বিকেলে উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই মাস্টারপাড়া গ্রামের বাড়িতে সমাজসেবা অফিসের কারিগরি প্রশিক্ষক মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেনসহ স্ত্রী সন্তানের মরদেহ পৌঁছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের স্বপ্ন যেন এক মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়ে গেলো। নিহতদের মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে আসে পুরো এলাকা। প্রিয় মানুষগুলোর মরদেহ একনজর দেখতে ছুটে আসে স্থানীয় নারী-পুরুষ।
 
পুলিশ ও নিহতদের স্বজন সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলার সমাজসেবা অফিসের কারিগরি প্রশিক্ষক (পোল্ট্রি অ্যান্ড গার্ডেনিং) ট্রেড এ কর্মরত মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ প্রাইভেটকারে করে উলিপুরের বাড়িতে আসছিলেন। পথিমধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম সদরের আরডিআরএস বাজার এলাকায় চিলমারী-সাতক্ষীরাগামী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে ওই প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-৯৫৯৫) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।  

এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারচালক নরসিংদী জেলার মনহরদি পৌরসভার চক মাধবদি গ্রামের সোহেল মিয়া (৩৫) নিহত হন।  

এ সময় গুরুত্বর আহত অবস্থায় প্রাইভেটকারের যাত্রী মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন (৫৭), স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪৫), ছেলে বেলাল হোসেন বায়েজিদকে (১৫) কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন মেয়ে আশামণি (৯) ও প্রাইভেটকারচালকের ভাতিজা ওয়াসিম (১৪)। পরে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে ওয়াসিমের মৃত্যু হয়।  

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার (ওসি-তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম।  

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ঈদের সময় ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসতে না পারায় ছুটি পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসছিলেন আকবর হোসেন।  

কুড়িগ্রাম সদর থানার থানার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হলেও পলাতক রয়েছেন চালক ও হেলপার।  

এ ঘটনায় নিহত আকবর হোসেনের ছোট ভাই হারুন অর রশীদ দুপুরে বাদী হয়ে ঘাতক বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে চালককে আসামি করে দুপুরে একটি মামলা করেছেন।

বাংলাদশে সময়: ২০৫৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০২০
এফইএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa