ঢাকা, সোমবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ সফর ১৪৪২

জাতীয়

আজমিরীগঞ্জে সরকারি ভাতা বিতরণে দুর্নীতি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৪১৩ ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০২০
আজমিরীগঞ্জে সরকারি ভাতা বিতরণে দুর্নীতি আজমিরীগঞ্জে সরকারি ভাতা বিতরণে দুর্নীতি

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় সরকারি ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তাহবিলের ভাতার তালিকা তৈরীতে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন আলমগীর মিয়া নামের এক নাগরিক।

আবেদনপত্রের প্রেক্ষিতে জানা যায়, শুধুমাত্র পৌর এলাকার বাসিন্দা দুস্থ মায়েরা ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তাহবিলের আওতায় ভাতা পাওয়ার কথা। অথচ আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ঠিকানা ব্যবহার করে অবৈধভাবে সরকারি এই সুবিধা ভোগ করছেন বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। নিয়মভঙ্গের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ মিয়ার বাছাই করা লোক বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে তিন বছর মেয়াদে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ২০০ জন। তারা প্রতি মাসে সহায়তা হিসেবে ৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। এদের মাঝে ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন ৩০ জন।

অভিযোগ পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুফলভোগীরা পৌর এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কথা থাকলেও ১নং ওয়ার্ডের ৩০ জনের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের মাধ্যমে তারা ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পৌরসভার বাসিন্দা হিসাবে ভাতা নিচ্ছেন।  

অভিযোগে বলা হয়, এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে ভাতাভোগীর তালিকায় রয়েছেন মঞ্জু সূত্রধর ও আকিমা আক্তার। অথচ তাদের প্রকৃত ঠিকানা আজমিরীগঞ্জের ১নং সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডস্থ একটি গ্রামে। অন্য আরেক ভাতাভোগী পুষ্প রাণী সূত্রধর। তারও বাড়ি কাকাইলছেও ইউনিয়নে।

অন্যদিকে, ভাতাভোগীদের সন্তান থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ১নং ওয়ার্ডের আরও কয়েকজন রয়েছেন যাদের গর্ভে সন্তান নেই। বাচ্চা থাকলেও বয়স পাঁচ বছরের উপরে। এই ভাতা একবার পাওয়ার কথা থাকলেও পূর্বের তালিকায়ও রয়েছে তাদের নাম। কৌশলে ঠিকানা বদলের মাধ্যমে এদেরকে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিকভাবে অর্থসুবিধা নিয়ে এই তালিকা তৈরী করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কোহলিকা সরকার এ ব্যাপারে বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি। অভিযোগের সত্যতা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মতিউর রহমান খান বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর এর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা। আমি ১৫ জনের নাম দিয়েছি, তারা সকলেই পৌরসভার নাগরিক। সুবিধা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ০৪১৩ ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০২০
এইচএমএস/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa