ঢাকা, শনিবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

দুই সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামিদের হেফাজতে নেবে র‌্যাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩২ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০২০
দুই সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামিদের হেফাজতে নেবে র‌্যাব বক্তব্য রাখছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ

ঢাকা: পুলিশের চেকপোস্টে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান দুই সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আত্মসমর্পণ করা আসামি সাত পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডে আনা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সাক্ষীদের দেওয়া তথ্যের ওপর আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে গত দু’দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন ঘটনার দিন প্রত্যেকেই বাহারছড়া কেন্দের চেকপোস্টে দায়িত্বরত ছিলেন। এছাড়া তারা ঘটনার বিষয় বিস্তারিত খুঁটিনাটি তথ্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বাহারছড়া চেকপোস্টে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যরাও ছিলেন। বিস্তারিত তথ্য তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না। হত্যা মামলার মূল আসামি বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দ লাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তদন্ত কর্মকর্তা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্ত কর্মকর্তা।

আশিক বিল্লাহ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা মনে করছেন, শুরুতে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের আলোকে আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করা আসামি বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আশিক বিল্লাহ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সাত আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তিনজনকে সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি চারজনকে দু’দিন করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অাদেশ দেন। তাদের বিস্তরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা আরও ১০ দিন করে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। এ আবেদনের বিষয় আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) শুনানি শেষে একটি সুনির্দিষ্ট রায় দেবেন আদালত।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আদালত আসামিদের সমস্ত প্রকার রিমান্ড কার্যক্রম ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার আদেশ দিয়েছিলেন। এ নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত কর্মকর্তা কার্যক্রম শুরু করার এক পর্যায় সময় সীমা উন্মুক্ত করার আবেদন করলে আদালত সেটি উন্মুক্ত করেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী পুলিশের দায়ের করা মামলা থেকে সোমবার জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ সিফাত ও শিপ্রার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা দায়ের করে। দু’টি মামলা টেকনাফ থানায় ও একটি মামলা রামু থানাতে। এ তিনটি মামলার তদন্তভার আদালতের নির্দেশে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনায় মেজর (অব.) সিনহার বড় বোনের দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলা ও পুলিশের দায়ের করা তিনটি মামলাসহ মোট চারটি মামলার তদন্তভার এখন র‌্যাবের হাতে এসেছে বলেও জানান তিনি।

জব্দ আলামতগুলো উদ্ধারে কী ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাব? জানতে চাইলে আশিক বিল্লাহ বলেন, মূলত সিফাত ও শিপ্রার বিরুদ্ধে পুলিশ যে তিনটি মামলা দায়ের করেছে ওই তিনটি মামলার পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে সিজার লিস্ট (জব্দ তলিকা) ধরে সব আলামত র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা বুঝে নেবেন। ওই সিজার লিস্টে তাদের যেসব জিনিসের বিষয় উল্লেখ নেই, যেমন- গণমাধ্যমের দ্বারা জানতে পেরেছি (ল্যাপটপ, ক্যামেরা) এসবের বিষয় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের আগে সাক্ষীদের কাছ থেকে জানতে চাই। কোনো সংবাদের ওপর ভিত্তি না করে সাক্ষীদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে তদন্ত কর্মকর্তা সেগুলো উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সাক্ষী শিপ্রা দেবনাথকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে শিপ্রা দেবনাথ একটি স্পর্শকাতর কথা বলেছেন। এটি তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এটি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তিনি এর বিচার দেখে যেতে চান। প্রয়োজনে ন্যায় বিচারের স্বার্থে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

আশিক বিল্লাহ বলেন, মামলার প্রধান সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রা দু’জনই বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের অনতি বিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ফোনালাপ ফাঁসের বিষয় তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ঘটনা সংক্রান্ত যেসব ফোলালাপ প্রকাশ হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করে সত্যতা পেয়েছি। আরও পর্যালোচনার পর তদন্ত কর্মকর্তা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

আশিক বিল্লাহ বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে অনাকাঙ্ক্ষিত যে ঘটনাটি ঘটেছে সে বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০২৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০২০
এসজেএ/আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa