ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

মেঘনায় পানি বেড়ে চাঁদপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৩১ ঘণ্টা, আগস্ট ৬, ২০২০
মেঘনায় পানি বেড়ে চাঁদপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত প্লাবিত এলাকা। ছবি: বাংলানিউজ

চাঁদপুর: মেঘনা নদীর পানির বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন অঞ্চল, সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলো ও হাইমচর উপজেলায় সেচ প্রকল্পের বাহিরের এলাকাগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে।

রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চরাঞ্চলের লোকজন কোনো উপায় না পেয়ে মাচা বেঁধে অবস্থান করছেন।  

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চঘাট, হরিণা ফেরিঘাট, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, নিউ ট্রাক রোড, আব্দুল করিম পাটওয়ারী সড়ক, কোড়ালিয়া রোড, যুমনা রোড, মাদ্রাসা রোড, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ সড়ক, হাফেজিয়া মাদ্রাসা সড়ক, মৈশাবাড়ী রয়েজ রোড, নিতাইগঞ্জ সড়ক, মধ্য শ্রীরামদী, পশ্চিম শ্রীরামদী, সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন, হানারচর ইউনিয়ন, চান্দ্রা ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম খান বলেন, ইউনিয়নের ৪ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। চরফতেজংপুর ও ইব্রাহীমপুর গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি।

সদরের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলী জানান, মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়েই পুরো ইউনিয়ন। সেখানকার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে চিরাচ্চর, রায়েরচর, গোয়ালনগর, বরিয়ারচর, মুগাদি, বাঁশগাড়ি, চরসুরেশ এলাকায় রাস্তাঘাট ও বাড়িতে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। লোকজন এখন মাচা বেঁধে অবস্থান করছেন। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টিও পানিতে তলিয়ে গেছে।

প্লাবিত এলাকা।  ছবি: বাংলানিউজসদরের চান্দ্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, তাদের বাড়িঘর পানির নিচে। সড়কগুলোও তলিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে থাকাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গবাদি পশুগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষ। পুকুর ও মৎস্য খামারগুলোও তলিয়ে গেছে।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটের লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বাংলানিউজকে বলেন, বিকেল থেকেই পানি প্রবেশ করে লঞ্চঘাট তলিয়ে গেছে। যার কারণে যাত্রীদের ওঠা নামায় অনেক কষ্ট হচ্ছে।  

হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রামের ফারুক গাজী, দুলাল মিয়া, ইয়াছিন মিজি, ছালে আহমদ বাংলানিউজকে বলেন, বিকেল থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি বেড়ে বাড়ি ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের মধ্যে এখন তারা পানিবন্দি। তাদের গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি পানির মধ্যে রয়েছে।

হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলার ডেলেরবাজার থেকে শুরু করে চরভৈরবী পর্যন্ত সড়কের মহজমপুর ও পুরাতন হাইমচর সড়কের দু’টি ব্রিজের নীচ দিয়ে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে করে মহজমপুর, চরকৃষ্ণপুর, নয়ানী, লামচরী, দক্ষিণ চরভৈরবী, গাজীনগর, নতুন বাজারসহ আশপাশের এলাকার বাড়িঘর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। রাস্তার উপরে দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। কয়েক এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে।  

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার রাত সাড়ে ৮টায় বাংলানিউজকে বলেন, গত কয়েকদিন মেঘনা নদীর পানি ছিল বিপৎসীমার ৫০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার। তা আজকে বেড়ে হয়েছে ৭৯ সেন্টিমিটার। যার কারণে আজ বিকেল ৫টা থেকে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁদপুর শহর, সদর ও হাইমচর উপজেলায় বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হাইমচর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মহজমপুর ও পুরাতন হাইমচর এলাকায় দু’টি ব্রিজের নীচ দিয়ে ভেঙে পানি লোকায়ে প্রবেশ করেছে। যার কারণে সেচ প্রকল্প এখন হুমকির মুখে। আমরা ভাঙন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

বাংলাদেশ সময়: ০১২৬ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa