ঢাকা, বুধবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ সফর ১৪৪২

জাতীয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তার ভাইয়ের অর্থপাচার ঠেকালো দুদক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ৩০, ২০২০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তার ভাইয়ের অর্থপাচার ঠেকালো দুদক দুদক/ ছবি: সংগৃহীক

ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনের ভাই মুন্সী ফারুক হোসেনের একটি ব্যাংক হিসাবের নয় কোটি টাকা পাচারের চেষ্টা ঠেকিয়ে দিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজের স্বাক্ষরে এক জরুরি পত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) এই অর্থ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার অনুরোধ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএফআইইউকে দেওয়া চিঠিতে মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই মুন্সী ফারুক হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনের নামে এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে থাকা এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

পত্রে একটি নথির বিষয় উল্লেখ করে আরও বলা  হয়, কমিশন ওই নথিতে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমকে প্রধান করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন হাসপাতালে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত এই অভিযোগটি কমিশনে অনুসন্ধানাধীন।

পত্রে আরও বলা হয়, দুদক জানতে পেরেছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নামীয়, তাদের মালিকানাধীন ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের ইব্রাহীমপুর শাখাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করে অন্যত্র স্থানান্তর এবং পাচার করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে   অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে, তাদের মালিকানাধীন ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো এবং ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনসহ লেনদেন অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।

এছাড়াও পত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়, আহাদ এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মুন্সী ফারুক হোসেনের নামে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের ইব্রাহীমপুর শাখায় থাকা সাত কোটি টাকার এফডিআর যা সুদসহ নয় কোটি টাকা রয়েছে। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের উক্ত এফডিআর ছাড়াও  অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, মুন্সী ফারুক হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনদের নিজ নামে, তাদের মালিকানাধীন ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অন্যান্য ব্যাংকে থাকা এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো এবং ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনসহ সব লেনদেন অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিএফআইইউকে অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ৩০, ২০২০
ডিএন/এইচএডি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa