ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বন্যার্তরা ছুটছে ত্রাণের জন্য, জুটছে না সবার ভাগ্যে

ফজলে ইলাহী স্বপন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২০
বন্যার্তরা ছুটছে ত্রাণের জন্য, জুটছে না সবার ভাগ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ। ছবি: বাংলানিউজ

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা চলমান থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় বন্যার্তদের ক্ষোভের মুখে বিপাকে পড়ছেন স্থানীয় জনপ্রতিধিরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার, দুধকুমর নদীর পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলায় বাঁধের ভাঙা অংশ নিয়ে বন্যার পানি ঢুকে উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ দোকানপাট, থানা চত্বর প্লাবিত হয়ে রয়েছে।

শত শত ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

শনিবার দিনভর কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম ও পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান উলিপুরের দুর্গম সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন সাহেবের আলগার চরাঞ্চল এলাকায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

সরেজমিনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ও হাতিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, দুই দফা বন্যায় উঁচু রাস্তা-বাঁধ বা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ নৌকায় আশ্রিত বানভাসিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অপ্রতুল ত্রাণ তৎপরতায় চলছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। ত্রাণের জন্য শত শত মানুষ ছুটে এলেও সবার ভাগ্যে জুটছে না। এছাড়া রয়েছে পয়ঃনিস্কাশন সমস্যা। আছে শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা সমস্যা। সরকারিভাবে বরাদ্দ ত্রাণ অপ্রতুল বলে জানিয়েছে বানভাসিরা।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বি এম আবুল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে ঘরে ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ একেবারে অপ্রতুল। ফলে বঞ্চিত অভাবী মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মণ্ডল বাংলানিউজকে জানান, অপ্রতুল ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে বন্যার্তদের মধ্যে গিয়ে। ২শ জনের জন্য ত্রাণ নিয়ে বিতরণের জন্য গেলে ছুটে আসছে শত শত বন্যার্ত মানুষ। এ সময় কাউকে বুঝিয়ে বিদায় করা হচ্ছে আবার অনেকের কটু কথা বা ক্ষোভের কথা শুনতে হচ্ছে। সেজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এই পরিস্থিতিতে চরাঞ্চলে ত্রাণ বিতরণকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বাংলানিউজকে জানান, মাঠ পর্যায়ের চাহিদা মাফিক পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগে ৪ লাখের বেশি মানুষকে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। এক কথায় ত্রাণের কোনো সংকট নেই। তবে এ কথা সত্য পানিবন্দি সব মানুষের ত্রাণ প্রয়োজন নেই। যারা অবস্থা সম্পন্ন তাদের বাদ দিয়ে সবাইকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। কেউ যেন খাদ্য সংকটে না পড়ে তার জন্য সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। দুই দফার বন্যার পর গত কয়েকদিনে বন্যার্তদের মধ্যে ১৭০ মেট্রিকটন চাল, ৯ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকার শিশু খাদ্য, ২ লাখ টাকার গো-খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দরিদ্রদের মধ্যে ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণের কাজও শুরু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে জানান, বন্যাকালীন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। জেলার ১১ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। এছাড়া রয়েছে মোবাইল টহল টিম। কোনো ধরনের বে-আইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। মোবাইলে অভিযোগ পেলেও সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, শনিবার বায়েজিদ (৮), মুন্নি (১৮মাস) ও গ্রাম পুলিশ সদস্য সুরুজ্জামান (৪৫) নামে তিন জনের বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। চলতি দুই দফার বন্যায় এ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু হলো। এরমধ্যে শিশু ৪ জন। এছাড়া প্রথম দফার বন্যায় পানিতে ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হিসাবে চলতি বছর বন্যায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬ জনে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫৩ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২০
এফইএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa