ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৫ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

অর্ধেক দামে মিলবে কৃষি যন্ত্রপাতি, একনেকে প্রকল্প

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৭-১৩ ০১:২৮:০৪ এএম
অর্ধেক দামে মিলবে কৃষি যন্ত্রপাতি, একনেকে প্রকল্প ফাইল ছবি

ঢাকা: কৃষির যান্ত্রিকীকরণের সারা দেশের কৃষকদের অর্ধেক দামে যন্ত্রপাতি দেবে সরকার। এ জন্য তিন হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৫১ হাজার ৩০০টি কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হবে।

যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার থ্রেসার, ড্রায়ার, পাওয়ার উইডার, পাওয়ার স্পেয়ার, পটেটো ডিগার, মেইজ শেলার ইত্যাদি।

‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক এ প্রকল্প তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশজুড়ে বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পের আওতায় হাওর ও লবণাক্ত অঞ্চলে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। অন্য জেলায় দেওয়া হবে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি। কৃষক যেসব যন্ত্র পছন্দ করবেন সেগুলোই দেওয়া হবে। জোর করে কৃষি যন্ত্রপাতি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কৃষক গ্রুপের সদস্যরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। চলতি সময় থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পটি দেখভাল করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি  প্রকৌশলী শেখ নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি মঙ্গলবার একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। কৃষকের খরচ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে ট্রান্সপ্লান্টার ও হারভেস্টার মেশিন। এক মেশিনেই ঘণ্টায় ২ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করা যায়।

প্রকৌশলী শেখ নাজিম উদ্দিন আরও বলেন, জিপিএস প্রযুক্তি সুবিধা সম্পন্ন হারভেস্টার দিয়ে একই সঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ একর জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা যায়। হারভেস্টারের মাধ্যমে খরচের পরিমাণ ৭০-৮০ শতাংশ, সময় ৭০-৮২ শতাংশ বাঁচানো সম্ভব। কৃষির সব সম্ভাবনা কাজে লাগাতেই এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতির দাম বেশি। এই জন্যই সরকার ভর্তুকিমূল্যে প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ২৮ লাখ টাকা দাম হলে কৃষক দেবে ১৪ লাখ টাকা, বাকি ১৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করবে। স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৫০ হাজার কম্বাইন্ড হারভেস্টার দেওয়া হবে কৃষকদের। কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে ধান কাটা, মাড়াই, পরিষ্কার ও প্যাকেটজাত করা যায়। এর সঠিক ব্যবহারে একর প্রতি কৃষি উৎপাদন খরচ ৫ হাজার টাকা থেকে মাত্র দেড় হাজার টাকায় নামিয়ে আনা যায়। একটা কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ৫০ থেকে ১০০ বিঘা জমিতে ধান কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব।

ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য ১৫ হাজার মেইজ শেলার কেনা হবে। ধান রোপণের জন্য রাইস ট্রান্সপ্লাটরসহ আলু উত্তোলনের যন্ত্রপাতি ভর্তুকি মূল্যে পাবেন কৃষকরা।

কৃষিতে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসল সংগ্রহত্তোর অপচয় হ্রাস, শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে পারেন কৃষক। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা, সাধারণ কৃষকদের মধ্যে যন্ত্র ব্যবহারের প্রসারতা বৃদ্ধি না পাওয়া এবং ফসল চাষে যন্ত্রের ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে প্রচারণা কম থাকাসহ নানা কারণে এখনও আধুনিক যন্ত্রনির্ভর হতে পারেনি কৃষি খাত। এজন্য এ প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার।

প্রকল্পের আওতায় ৩০০টি ব্যাচে ৯ হাজার গ্রামীণ মেকানিককে ২৮ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এক হাজার ২০০ জন কর্মকর্তাকে ৪০টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ, এক হাজার ব্যাচে এক লাখ যৌথ জমি ব্যবহারকারী কৃষক বা উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ এবং সাড়ে ১২ হাজার জনকে ৫০ ব্যাচে যন্ত্র উপযোগী ধানের চারা উৎপাদন কৌশল সংক্রান্ত পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সমন্বিত খামারে এক হাজার ২৪০ মেট্রিকটন বীজ সহায়তা দেওয়া হবে। এর বাইরে ১৮টি এটিআই প্রশিক্ষণ ভবন ও ডরমেটরি নির্মাণ, একটি কৃষি যন্ত্রপাতি টেস্টিং ও প্রশিক্ষণ সেন্টারের সুবিধা সৃষ্টি, একটি টেস্টিং সেড নির্মাণ এবং ৩০০টি কৃষি যন্ত্রপাতি উপকরণ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ফসল উৎপাদনের প্রস্তুতিপর্ব, কাটার আগে পরিচর্যা, কাটার সময় ও কাটার পরে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়। কৃষি কাজের এসব স্তরে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নিশ্চয়তার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। উৎপাদন ও শ্রম খরচ কমবে কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে।

ধান বীজ বোনার জন্য রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের প্রয়োজন দুই লাখ। এছাড়া ধান কাটার যন্ত্র রিপারের চাহিদা এক লাখ হলেও দেশে এ যন্ত্র রয়েছে পাঁচ হাজার। ধান বোনার জন্য পিটিও সিডার আছে মাত্র আড়াই হাজার। দেশে এ যন্ত্রের চাহিদা রয়েছে এক লাখ। প্রকল্পের আওতায় চাহিদা পূরণ করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জমি চাষে এখন প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি যান্ত্রিকীকরণের ছোঁয়া লাগলেও পিছিয়ে রয়েছে ট্রান্সপ্লান্টিং ও হারভেস্টিং। মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ জমিতে ট্রান্সপ্লান্টিং করতে ব্যবহার করা হচ্ছে যন্ত্রের। অন্যদিকে, মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ জমিতে হারভেস্টিং করতে যন্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। যন্ত্রের ব্যবহার না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে কৃষক।

বাংলাদেশ সময়: ০১১৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২০
এমআইএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa