ঢাকা, শনিবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

ঢেলে সাজানো হবে জাতীয় জাদুঘর

55 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮২১ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২০
ঢেলে সাজানো হবে জাতীয় জাদুঘর

ঢাকা: প্রধান ভবন সংস্কার করে জাতীয় জাদুঘরকে আরো দৃষ্টিনন্দন, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। জাদুঘর চত্বরে নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে বেইজমেন্টসহ দু’টি ১৩তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবন। এছাড়া একটি দ্বিতল ও দু’টি ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে। এগুলোসহ নানা উন্নয়ন কাজে ৫৭৯ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় করে ঢেলে সাজানো হবে জাতীয় জাদুঘর।

জাদুঘরের প্রধান ভবন থেকে অফিস ও স্টোর স্থানান্তর করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে গ্যালারির সংখ্যা বাড়ানো ও গ্যালারিগুলোতে নতুন আঙ্গিকে দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জন্য নির্দশনগুলো উপস্থাপন করা হবে।

‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পটি চলতি সময় থেকে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও গণপূর্ত অধিদপ্তর।  

প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নতুন গ্যালারি নির্মাণ করে সজ্জিতকরণ করা হবে। এছাড়া আরো শিল্পকর্ম, চিত্রকর্ম ও নির্দশন কেনা হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান শামীম খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘জাতীয় জাদুঘর ঢেলে সাজানো হবে। জাদুঘরের মূল ভবনের পাশেই নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে আন্তর্জাতিক মানের রূপ পাবে জাতীয় জাদুঘর। গ্যালারি সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দশন প্রদর্শনীও বাড়বে। প্রকল্পের আওতায় সব ধরনের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও সুবিধা সম্বলিত নির্দশন স্টোর স্থাপন করা হবে। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে। ’
 
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় দু’টি জিপ, একটি ভ্রাম্যমাণ বাস, একটি স্কুল বাস, একটি মাইক্রোবাস, আসবাবপত্রকেনাসহ গ্যালারি সজ্জিতকরণ ও নির্দশন কেনা হবে। জাদুঘর চত্বরে অ্যাপ্রোচ রোড স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, আরসিসি বাউন্ডারি ওয়াল, গভীর নলকূপ, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়ার্টার রিজার্ভার নির্মাণ করা হবে।
 
মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, নানা কারণে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরের বর্তমান ভবনটি সংস্কার বা আধুনিকায়ন করার জন্য গত ৩৫ বছরে কোনোরূপ সামগ্রী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে তা সাময়িকভাবে সমাধান করা হয়েছে। ফলে জাদুঘরের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া জাদুঘরের জনবল সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে  নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি শাখা জাদুঘর চালু রয়েছে। এছাড়াও আরো নতুন নতুন জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে। জাদুঘরের প্রধান ভবন থেকে অফিস, নির্দশন স্টোর, অডিটরিয়ামগুলো প্রস্তাবিত নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে জাদুঘরের গ্যালারির সংখ্যা বাড়বে। এতে সংরক্ষিত নির্দশনগুলো প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। ফলে জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরো ব্যাপক পরিসরে ও দৃষ্টিনন্দনভাবে প্রদর্শন করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে জাদুঘরের প্রশাসনিক কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়বে।

বাংলাদেশ সময়: ০৮২০ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২০
এমআইএস/আরআইএস/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa