ঢাকা, বুধবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

চর ও বিলুপ্ত ছিটমহলে বিনামূল্যে হাঁস-মুরগি-ছাগল বিতরণ

55 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৭-০৯ ১১:২৩:৩৭ এএম
চর ও বিলুপ্ত ছিটমহলে বিনামূল্যে হাঁস-মুরগি-ছাগল বিতরণ

ঢাকা: উত্তারাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুবিধাবঞ্চিত ৮৬টি বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলে ৪৭ হাজার ১২টি দরিদ্র পরিবারে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করবে সরকার। এ খাতে ৭২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।

ফলে প্রতিটি পরিবার হাঁস, মুরগি ও ছাগল পালনের জন্য ১৫ হাজার ৪৯৩ টাকা অনুদান পাবেন। এ টাকা দিয়ে পরিবারগুলোকে হাঁস, মুরগি ও ছাগল কিনতে হবে।

বিনিময়ে কোনো টাকা নেওয়া হবে না। বিলুপ্ত ছিটমহল ও চরাঞ্চলে আমিষের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নত প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে সারা দেশে নিরাপদ আমিষের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ে।

নারীর আয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যই মূলত এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে করে দরিদ্র পরিবারগুলো বৈরী পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।

উত্তারাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুবিধাবঞ্চিত ৮৬টি এলাকা ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলের অধিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নত ও লাগসই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে। রংপুর বিভাগের চারটি জেলায় ৯টি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের ৮৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলে এটি বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের ৯টি জেলার ৪০টি উপজেলার ১৭৫টি ইউনিয়নের নদীবিধৌত ১ হাজার ৪টি চরের মোট ৪৭ হাজার ১২টি দরিদ্র পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন।

প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। চলতি সময় থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

প্রকল্প এলাকায় ৮৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলে ৮ হাজার ৫৫০ পরিবার রয়েছে। বাকি পরিবার চরাঞ্চলের। উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে সুফলভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। যাদের ন্যূনতম বসতবাড়ি আছে তাদের অনুদান দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সুফলভোগী পরিবার নির্বাচন করা হবে, যাতে করে হাঁস, মুরগি ও ছাগল কেনার জন্য প্রকৃত পরিবার অনুদান পেতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় আরও নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাঁস, মুরগি ও ছাগলের ভ্যাকসিন ও টিকা বাবদ ১৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এছাড়া সুফলভোগী পরিবারে ৮ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন প্রাণিখাদ্য বিতরণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় ৮টি হাঁস-মুরগি খামারের সেড, গোডাউন তৈরি করা হবে। মেডিসিন ও ভ্যাকসিন প্রদর্শনীসহ প্রকল্প এলাকায় ২০১ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ অর্থনীতিবিদ ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার বাংলানিউজকে বলেন, ‘সাধারণত চর ও বিলুপ্ত ছিটমহলে অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। এসব পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত দরিদ্র পরিবারে বিনামূল্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করা হবে। পরিবারগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। ’

বাংলাদেশ সময়: ১১২২ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০২০
এমআইএস/এফএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa