ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৫ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার চার বছর, জড়িতদের ফাঁসি দাবি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ৭, ২০২০
শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার চার বছর, জড়িতদের ফাঁসি দাবি

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া মাঠে ঈদের দিন সংঘটিত জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্ণ হলো মঙ্গলবার (৭ জুলাই)।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারান দুই পুলিশ কনস্টেবল ও এক গৃহবধূসহ চারজন।  

জঙ্গিদের হামলায় আত্মোৎসর্গকারীদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য জহিরুল ইসলাম ও আনছারুল হক এবং স্থানীয় গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ভৌমিকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা।

 

ঘটনাস্থলে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে মঙ্গলবার সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ। এসময় জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, এটি একটি ভয়াবহ ও জঘন্য হামলা। শোলাকিয়ায় লাখো মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ জীবন দিয়ে সে হামলা রুখে দিয়েছে।  

এ হামলায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপার আরো বলেন, এ হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে।  

এরপর পুলিশ সুপার নিহত ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের বাসায় গিয়ে তার স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার, কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিকসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নিহতদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।  

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের দিন (৭ জুলাই) শোলাকিয়া ঈদগাহের অদূরেই আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় জহিরুল ইসলাম ও আনছারুল হক নামে দু’জন পুলিশ কনস্টেবল, স্থানীয় গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ভৌমিক ও আবির রহমান নামে এক জঙ্গি নিহত হন। আহত হন আরো আট পুলিশ সদস্য। পুলিশের গুলিতে আহত আরেক জঙ্গি শফিকুল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জে আসার পথে নান্দাইলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।  

পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির অভিযোগপত্র ২০১৮ সালে আদালতে দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে মোট ২৪ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হলেও ১৯ জন আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন এবং বাকি পাঁচজন কারাগারে রয়েছেন। কারান্তরীণ পাঁচ আসামি হলেন কিশোরগঞ্জের জাহিদুল হক তানিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, কুষ্টিয়ার আব্দুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধি ও আনোয়ার হোসেন। অভিযোগপত্রে মামলার সাক্ষী হিসেবে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।

এদিকে জঙ্গি হামলায় নিহত ঝর্ণা রানীর পরিবারের বিপর্যস্তভাব এখনও কাটেনি। তার ছোট ছেলেটি এখনও মায়ের আদর স্নেহ খুঁজে ফেরে। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এ হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি নিহতের পরিবার ও স্বজনদের।  

নিহত ঝর্ণা রানীর স্বামী গৌরাঙ্গ নাথ ভৌমিক জানান, তিনি এখনো স্ত্রী হারানোর কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন। এমন যেন আর কোনো স্বামীর ভাগ্যে না ঘটে।  

নিহত ঝর্ণা রানীর ছোট ছেলে শুভ নাথ ভৌমিক জানায়, মায়ের কষ্ট তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।  

মামলার বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক বলেন, করোনার কারণে মামলাটির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে এ মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৭, ২০২০
এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa