ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৫ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

জেএসএস লারমার বান্দরবানের সভাপতিসহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯১৮ ঘণ্টা, ৭ জুলাই ২০২০
জেএসএস লারমার বান্দরবানের সভাপতিসহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যা

বান্দরবান: বান্দরবানে পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক গ্রুপের সশস্ত্র হামলায় জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপের সভাপতিসহ ছয় জন নিহত হয়েছেন। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও তিন জন।

মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজার পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  

নিহতরা হলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা (৬৮), উপদেষ্টা কমিটির সদস্য চিংথোয়াইয়াং মারমা ওরফে ডেভিড (৫৬), বান্দরবান জেলা সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গা (৫০), পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির সদস্য রবীন্দ্র চাকমা (৫০), রিপন ত্রিপুরা ওরফে জয় (৩৫) ও জ্ঞান ত্রিপুরা ওরফে দিপন (৩২)।

রতন তঞ্চঙ্গা ছাড়া বাকি সবার বাড়ি খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতরা হলেন- নিরু চাকমা (৫০), বিদুৎ ত্রিপুরা (৩৮) ও শিক্ষার্থী মেমানু মারমা (২৬)। আহতদের প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সামপ্রুই মারমা বাংলানিউজকে জানান, সকালে হঠাৎই বাঘমারা বাজার পাড়ার পশ্চিম দিক থেকে একটি সশস্ত্র গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করে সংস্কারপন্থি গ্রুপের সভাপতির বাসায় হামলা চালায়। হত্যার শিকার সবাই ওই ঘরেই অবস্থান করছিলেন। হামলার সময় কিছু সদস্য পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে নিহতদের মধ্যে সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গ্যা ও সদস্য প্রজিত চাকমা ছাড়া অন্য সদস্যদের কেউ চেনেন না বলে জানান।

সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে রতন তঞ্চঙ্গ্যাকে সভাপতি করে বান্দরবানে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থি গ্রুপের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপের সঙ্গে তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলেই আসছিল।

এদিকে ঘটনার পর বাঘমারা বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। আতঙ্কে স্থানীয়রা অনেকেই নিরাপদ জায়গায় চলে গেছেন, থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বাঘমারা ও আশপাশের এলাকায়।  

এদিকে প্রশাসন বলছে হত্যাকাণ্ডের পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।  

বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বাংলানিউজকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।  

তিনি আরো বলেন, গুলিবিদ্ধ আহত তিন জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নিহত ছয় জনের মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৬ ঘণ্টা, জুলাই ০৭, ২০২০  আপডেটেড: ১৪১২ ঘণ্টা
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa