ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

‘মন্ত্রী-এমপির চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে বাধ্যতামূলক করুন’ 

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫৪ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০২০
‘মন্ত্রী-এমপির চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে বাধ্যতামূলক করুন’ 

ঢাকা: করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বিভাগের অবস্থা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদস্যরা (এমপি)। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। পাশাপাশি সরকারি হাসপতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক করতে মন্ত্রী-এমপিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বাধ্যতামূলক করার দাবি করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে মঞ্জুরি প্রস্তাবের উপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের বক্তব্যে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা এ দাবি জানান।

বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সব করতে হয়।

কীভাবে হাঁচি দিতে হবে তাও প্রধানমন্ত্রীকে বলে দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রীকে যদি সব বলে দিতে হয় তাবে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের কী দরকার। অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। করোনায় কী করতে হবে তাও যদি প্রধানমন্ত্রীকে বলে দিতে হয় তাহলে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর রেখে খরচ বাড়ানোর দরকার কী।

শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডাক্তার বা স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে লেখাপড়া করাদের নিয়োগ দেওয়া দরকার। কোনো অবস্থাতে যাতে স্বাস্থ্যখাত ভেঙে না পড়ে সেটা দেখতে হবে।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, হাসপাতালে টেকনিশিয়ার সীমিত। দুপুর ১২টার পর আর পরীক্ষা করানোর টেকনিশিয়ান পাওয়া যায় না। টেকনিশিয়ার নিয়োগ দিতে হবে। বছরে এক কোটির উপরে মানুষ ভারতে চিকিৎসায় যায়।  

জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে মীনা কার্টুনের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মীনা কার্টুনে পরিণত হয়েছে আর মন্ত্রণালয় চলছে টিয়া পাখির দ্বারা। মানুষ আমাকে বলে সংসদে বলবেন প্রধানমন্ত্রী যেন বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিয়ে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে স্বান্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন।

রওশনারা মান্নান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ে দুর্নীতি আছে। করোনার সময় কী কাজ করা হয়েছে তা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটা বিবৃতি দেওয়া উচিত, মানুষকে জানানো উচিত। উনি কী করেছেন।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, করোনা যখন চীনে শুরু হয় তারপর ফেব্রুয়ারিতেই আমি সংসদে বলেছিলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম স্বাস্থ্য সচিব একেক সময় একেক কথা বলছেন। তখন স্বাস্থ্য সচিব বললেন, গরমে করোনা হবে না। আবার এখন বললেন দুই-তিন বছর করোনা থাকবে। একটি নির্দেশনা দেন এমপি-মন্ত্রীকে বাধ্যতামূলক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন। বেসরকারি হাসপাতালে বা বিদেশে যাবে না, অতি জরুরি না হলে। এ নির্দেশনা দেন তাহলে সরকারি হাসপতালের চিকিৎসার অবস্থা ভালো হবে।
 
বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০২০
এসকে/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa