ঢাকা, বুধবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৩ জুন ২০২১, ১২ জিলকদ ১৪৪২

জাতীয়

করোনা সংকট কেটে গেলে ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪৪ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০২০
করোনা সংকট কেটে গেলে ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানি

ঢাকা: করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সংকট কেটে গেলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ পিটিশনের শুনানি শুরু হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে একজন সংসদ সদস্য কথা বলেছেন। ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ পিটিশন আপিল বিভাগে আছে।

যখনই করোনা ভাইরাস আমাদের ছেড়ে যাবে, তখনই শুনানি শুরু করব।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর একজন সংসদ সদস্য এ প্রসঙ্গ আনলে তার উত্তরে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যের সময় ষোড়শ সংশোধনীর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান।

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই সংসদে আমরা সংবিধান সংশোধন করেছিলাম। ষোড়স সংশোধনী। সেই সংশোধনীটা বাতিল করা হয়েছিল। তারপর আমরা তা আপিল করেছিলাম কি-না? আপিল করলে তার কী অবস্থা? আমরা জানি না। আইনমন্ত্রীকে বলব এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিন। আপনার প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। আপনার যোগ্যতার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। এরপর আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যের সময় এ কথা জানান।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

এরপর ২০১৫ সালের ৫ মে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং শুনানি শেষে ওই বছরই ৩ জুলাই আপিল বিভাগ ওই আপিল খারিজ করে রায় দেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ১ অগাস্ট। এরপর ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের ওই রায় চ্যালেঞ্জ দিয়ে রিভিউ পিটিশন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা দেশ ছেড়ে যান এবং পরে পদত্যাগও করেন।

মুজিবুল হক চুন্নু আরও বলেন, কোনো কিছু হলেই, ছোটখাটো বিষয়েও আদালেতে রিট করা হয়। যেন তারাই সব। সংসদ কিছু না। কোর্টে মামলার জট। ৪৫ লাখের মতো মামলা বিচারের অপেক্ষায়। তিনি বিচার ব্যবস্থা ডিজিটাল করে মামলার জট কমানোর প্রস্তাব করেন।

এরপর আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার জট অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে ৪৫ লাখের মতো মামলা। আসলে ৪৫ লাখ নয়, ৩২ লাখের বেশি মামলার জট। আমরা মামলা কমিয়ে ফেলার একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে ছয় মাস তো চলে গেল। মামলার জট কমানো হবে। সরকারের উদ্যোগ আছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪০ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০২০
এসকে/টিএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa