ঢাকা, শুক্রবার, ৪ আষাঢ় ১৪২৮, ১৮ জুন ২০২১, ০৭ জিলকদ ১৪৪২

জাতীয়

‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে সফলতা নয়, লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি হবে’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩০৯ ঘণ্টা, জুন ২৯, ২০২০
‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে সফলতা নয়, লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি হবে’

ঢাকা: গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে পাটশিল্পের সফলতার কোন কারণ নেই। বরং এর ফলে লুটপাটের নতুন একটা ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ শ্রমিকনেতা বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার (২৮ জুন) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাটকলের ২৪ হাজার ৮৮৬ জন শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের সিদ্ধান্ত ঘোষণার প্রেক্ষিতে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গোল্ডেন হ্যান্ডশেক হচ্ছে স্থায়ী কোন শ্রমিককে মজুরি কমিশন অনুযায়ী সকল পাওনা পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া।

পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রসঙ্গে শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকারের আমলাদের কথা শুনলে মনে হয় বিষয়টি ভালোর দিকেই যাচ্ছে। এর আগেও আমাদের অনেক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ৮০টি টেক্সটাইল কারখানার মধ্যে অবশিষ্ট ১৪টি কারখানা ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদায় করা হয়েছিল। তখনও বলা হয়েছিল পরবর্তী সময়ে এই কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করে চালু করা হবে। আরও বলা হয়েছিল ব্যক্তিমালিকানায় আরও সফলভাবে এই কারখানাগুলো চালানো যাবে।

আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরে অনেক উন্নয়ন সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত ঐ কারখানাগুলোর মধ্যে একটা কারখানাও ভালোভাবে চালানোর একটাও প্রমাণ মেলেনি। এই টেক্সটাইলগুলোর যে কাঠামো ছিল সবগুলোকে গার্মেন্টসে ফিটিংস করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এসব চিন্তা না করে সব শ্রমিকদের ছাঁটাই করে দেওয়া হলো। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট হইছে।

তিনি আরও বলেন, বাউয়ানী জুট মিলের জায়গা খালি করা হয়েছিল এখানে শিল্প গড়ে তোলার কথা বলে। কিন্তু এখানে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করেছে। পাটকলেও কোন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) হবে না। পিপিপি প্রোগাম তো নতুন কিছু নয়। এটা ২০০৮ সালে শুরু হয়েছে। এই প্রোগামের আওতায় অবকাঠামোগত কিছু কাজ হয়েছে যা অত্যন্ত লাভজনক। এখানে বিনিয়োগ করলে নিশ্চিতভাবে টাকা ফেরত আসবে। এসব জায়গা কিছু কোম্পানি কিনে ফেলছে। যে শিল্পের মেশিনারিজের বয়স একশ বছরের বেশি, যে মেশিনারিজ বর্তমানে কোন অবস্থাতেই উৎপাদনশীলতায় নাই, সেই রকম একটি শিল্পে এ দেশের কোন বোকা মালিক আছে যে পিপিপি আওতায় এই কারখানা চালাতে আসবে। সুতরাং এগুলো হলো ভোগাস একটা প্রোগাম।

প্রবীণ এই শ্রমিকনেতা আরও বলেন, আমাদের ডেমরার বাওয়ানী এবং করিম জুট মিলের প্রায় ১৪০ একর জায়গা আছে। ডেমরা থেকে যাত্রাবাড়ী ৪ লেনের হাইওয়ে হচ্ছে। এখানে এখনি এক কাঠা জমির দাম ৩০ লক্ষ টাকা। তাহলে ১৪০ একর জায়গার দাম কত টাকা হবে হিসাব করে দেখেন। জুট মিল বন্ধ করে শ্রমিকদের খালি করতে পারলে জুট মিলের জায়গাগুলো দখল করে লুটপাটের একটা নতুন মোহরা চলবে। তাই এই অযৌক্তিক প্রোগ্রাম সফল হবার কোন কারণই নেই। ফলে এসব জায়গায় লুটপাটের নতুন একটা ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১১০৯ ঘণ্টা, জুন ২৯, ২০২০
আরকেআর/এমকেআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa