bangla news

বেড়ায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চিঠি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৬-১৯ ৯:৫২:৪৩ পিএম
স্পিডবোট। ছবি: বাংলানিউজ

স্পিডবোট। ছবি: বাংলানিউজ

পাবনা: দখল আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পাবনার বেড়া উপজেলার কাজিরহাট-আরিচা রুটে চলাচল করা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ঢালার চরের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার তার বাহিনী দিয়ে এটি বন্ধ করে রেখেছেন। এ ঘটনায় সমস্যা সমাধান ও ঘাট এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে চিঠি দিয়েছে স্পিডবোট মালিক সমিতি।

গত ১৫ জুন পাবনা জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কাজিরহাট স্পিডবোট মালিক সমিতিরি আহ্বায়ক মো. রেজাউল হক বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল হাসেম উজ্জ্বল ও মো. মিরোজ হোসেন।

অভিযোগকারীরা বলেন, কাজিরহাট ঘাট কেন্দ্রিক এই এলাকার সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ব্যবসা ও পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। খুব সহজে পাবনা, নাটোর, রাজশাহীসহ আশপাশের বেশ কিছু জেলার মানুষ এই নৌপথ ব্যবহার করে রাজধানীতে যাতায়াত করে আসছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম অনুসরণ করে সুনামের সঙ্গে কাজিরহাট ও আরিচা নৌপথে স্পিডবোট পরিচালনা করে আসছি। পার্শ্ববর্তী এলাকা ঢালাচরের কোরবান চেয়ারম্যান ও তার বাহিনী ঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্পিডবোট কাউন্টারে হামলা চালান এবং চাঁদার দাবি করেন। তাদের এই কার্যক্রমে বাধা দেওয়ায় ও চাঁদা না পেয়ে তারা আমাদের বোট বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। 

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী স্পিডবোট মালিক সমিতির আহ্বায়ক রেজাউল হক বাবু বলেন, ঘাটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছেন কোরবান চেয়ারম্যান। তাকে সহযোগিতা করছেন বেড়া উপজেলার সদ্য দল থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন।তিনি এই ঘাট এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। 

বর্তমানে ঘাট এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় এই ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।  

বর্তমানে কাজিরহাট-আরিচা নৌ পথে স্পিডবোট চলছে মোট ২০টি। নয়টি কাজিরহাট এলাকার ও ১১টি আরিচা এলাকার। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঢালার চরের চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার বলেন, কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম আমি করি নাই বা করছি না। আমার নিজেরও বোট আছে। যারা আমার নামে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ত্রাণের চাল অনিয়মের ব্যাপারে আমি জেলে যাওয়ার পরে এই অভিযোগকারীরা আমারসহ আমাদের বেশ কিছু মানুষের বোট বন্ধ রেখেছিলো। আমি শুধু সঠিক নিয়ম চালু করেছি। 

এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে এই নদীর ঘাট নিয়ে কোনো অনিয়ম বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহামুদ বলেন, আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঘাট এলাকার চেয়ারম্যান ও স্পিডবোড মালিক সমিতির নেতারা। বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ বলে মনে হচ্ছে। সবাই সরকার দলীয় নেতার্কমী। সবাই নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সুতরাং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৬ ঘণ্টা, জুন ১৯, ২০২০
আরএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   পাবনা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-06-19 21:52:43