ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মাঘ ১৪২৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

করোনা: কক্সবাজারের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা দাবি 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩২ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০২০
করোনা: কক্সবাজারের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা দাবি 

ঢাকা: রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে করোনার সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচানো ও এই সংকট সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সব প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয়-জাতীয় এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থার অংশগ্রহণও আবশ্যক। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ২০ জুন অনুষ্ঠেয় বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সবার উপরে মানুষ সত্য: কোভিড-১৯ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমণের আশংকাটা আমরা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পেরেছি, এজন্য ভূমিকা ছিল সংশ্লিষ্ট সবার।

করোনা প্রতিরোধে শিবির এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিদের উপস্থিতি ২০ শতাংশ এবং যানবাহনের সংখ্যা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা রোগীদের জন্য ২৩০টি আইসোলেশন বেড তৈরি করা হয়েছে, খুব শিগগিরই ১৯শ বেডের হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। ৩৩৬টি চিকিৎসা বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়দের জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে আনা হয়েছে পিসিআর মেশিন।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, স্থানীয় মানুষকে সচেতন করতে, তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় এনজিওরা এগিয়ে আসতে পারে।  

ইউএনএইচসিআরের লাইভলিহুড অফিসার সুব্রত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় ২০ জুন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১০ বেড সমৃদ্ধ আইসিইউ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ৬ হাজার পরিবারকে ইতোমধ্যে সবজি বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংস্থার পক্ষ থেকে ২৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মী, ২৫০ জন  ক্লিনিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং ১৫শ জন স্বেচ্ছাসেবককে করোনা ভাইরাসের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।  

টেকনাফ শিক্ষক সমিতি সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরী মুসা বলেন, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সিলেবাস ও পরীক্ষার নম্বর ব্যবস্থা পুনর্বন্টন করতে হবে।  

ভয়েস অব উখিয়ার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন।  

হেল্প কক্সবাজারের আবুল কাশেম বলেন, স্থানীয় এনজিওরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি।  

অগ্রযাত্রার মো. হেলাল বলেন, সিসিএনএফের নির্দেশনায় স্থানীয় এনজিওরা দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছে।  

দুর্যোগ ফোরামের গওহর নউম ওয়ারা বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে লবণ, শুঁটকি ও জ্বালানি স্থানীয়ভাবে স্থানীয় মানুষ সরবরাহ করতে পারলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং আর্থিক সুযোগ বাড়বে।  

পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে বিভিন্ন পণ্যসেবার চাহিদা আছে। সেই চাহিদামতো পণ্য ও সেবার সরবরাহ স্থানীয়রা করতে পারে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।  

কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে, তাকে উপলক্ষ করে আমাদের অর্থিক সুযোগুলো নিতে হবে।  

সেমিনারে উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান।  

বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০২০
জিসিজ/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa