ঢাকা, বুধবার, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০, ১৬ জিলকদ ১৪৪১

জাতীয়

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছেন, কেউ মানছেন না

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০২-০৬ ১০:৩৩:৪৮ পিএম
গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছেন, কেউ মানছেন না

ঢাকা: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রাজধানীতে চলতে শুরু করেছে গণপরিবহন। পরিবহন চালুর দ্বিতীয় দিনে নগরীর মিরপুরের বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানতে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র একটি সিটে একজন যাত্রী বসছেন আর মাস্ক পরে যাতায়াত করছেন। যানবাহনে উঠার সময় জীবাণুনাশক বা স্প্রে করা হলেও মানা হচ্ছে না তিন ফিট দূরত্ব। সংশ্লিষ্টরা বলতে পারছেন না যাত্রীদের গায়ে কী দিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর ইসিবি চত্বর, ভাষানটেক, কালশীর মোড়, মিরপুর ১৪,১৩,১২, ১১, ১০, ৭, ৬, ২ ও ১ নম্বর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।  

সরেজমিনে দেখা যায়, এক সিট ফাঁকা রেখে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই সড়কে চলছে পরিবহন।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। বেশিরভাগ বাসে দেখা যায় যাত্রী, বাসচালক, কন্টাকটার মাস্ক পরা থাকলেও পরছেন না হ্যান্ড গ্লাভস। পরিবহনে উঠার সময় যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও কোন পরিবহনে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে দেখা যায়নি। এছাড়াও গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহার করে গণপরিবহন চালানোর কথা থাকলেও কাউকে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।  

এ বিষয়ে শিখর পরিবহনের বাস চালক মো. শাহিন বাংলানিউজকে বলেন, এই গরমের মধ্যে পিপিই পরে বাস চালানো যায় না। হ্যান্ড গ্লাভস পড়ছিলাম কিন্তু হাত প্রচুর পরিমাণে ঘামায়। গরমে খুব খারাপ অবস্থা। তাই আমি হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে আধাঘণ্টা পর পর হাত পরিষ্কার করি। এভাবেই বাস চালাচ্ছি।  ছবি: রাজীন চৌধুরীআপনাদের পরিবহনে কেমন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসের প্রতিটি সিটে একজন করে যাত্রী বসানো হচ্ছে অন্য সিট ফাকা রাখা হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের সিট স্প্রে করা হচ্ছে। তাদের হাত স্প্রে করা হচ্ছে। পরিবহনের অফিস থেকে বাসে স্প্রে দেওয়া হয়েছে। কী দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঠিক বলতে পারছি না। মনে হয় স্যাভলন বা ডেটল দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে স্প্রে। এগুলোই যাত্রীদের ও বাসের সিটে দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াসিম পরিবহনের যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, সকালে আমি পুরনো ঢাকায় গিয়েছিলাম বাসে করে। ঢাকার বেশ কয়েকটি জায়গায় বাসে করে যাতায়াত করেছি। দেখলাম প্রতি বাসে একজন করে বসানো হচ্ছে। আর বাসে ওঠার সময় স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু কোথাও শরীরের তাপমাত্রা মাপতে দেখেনি। কোন কোন বাসে কন্টাকটার আর চালককে হ্যান্ড গ্লাভস পরতে দেখেছি আবার অনেকে না পরেও বাস চালাতে দেখেছি। বলা যায় স্বাস্থ্যবিধি মোটামুটি মানা হচ্ছে। এভাবে চললে ঠিক আছে।

অভিযোগ করে পরিস্থান পরিবহনের যাত্রী মো. কাল্লু বলেন, গতকাল যে পরিমাণ স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছিল আজকে মনে হয় একটু কম মানা হচ্ছে। গতকাল বাসচালকও কন্টাকটারকে হ্যান্ড গ্লাভস পরে বাস চালাতে দেখা গেছে। কিন্তু আজকে তেমন দেখা যাচ্ছে না একটু কম। গতকাল  তাদের নিজ থেকে স্প্রে করতে দেখা গেছে। কিন্তু আজকে না চাইলে জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করছে না।

যাত্রীদেরকে কী মেশানো পানি দিয়ে হাতে ও সিটে স্প্রে করা হচ্ছে জানতে চাইলে প্রজাপতি বাসের এক কন্ডাক্টর ইমরান হোসেন বলেন, সাদা সাদা পানিতে মেশানো কী জানি দিছে অফিস থেকে। বলতে পারি না। মনে হয় ডেটল মেশানো পানি।  

হ্যান্ড গ্লাভস পরেনি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরম লাগে। এই কারণে পরি নাই। কতক্ষণ গ্লাভস পরে থাকা যায়।  

ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট (পল্লবী জোন পশ্চিম) শাহ আলম বাংলানিউজকে বলেন, আমার দেখা মতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলছে। বাসের অর্ধেক সিট খালি রাখা হচ্ছে। গতকাল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বেশিরভাগ পরিবহনের খালি থাকতে দেখেছি। স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছেন কেউ মানছেন না গণপরিবহনের শ্রমিকরা।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো জনসচেতনতা। বিধিনিষেধ মেনে চলা। আমরা সবাই সচেতন হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সময়: ২২৩৪ ঘণ্টা, ০২ জুন, ২০২০ 
এমএমআই/জেআইএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa