ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ সফর ১৪৪২

জাতীয়

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা: মাদারীপুরের ১৩ জন নিখোঁজ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৫ ঘণ্টা, মে ২৯, ২০২০
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা: মাদারীপুরের ১৩ জন নিখোঁজ

মাদারীপুর: লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর থেকে মাদারীপুরের ১৩ যুবকের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না তাদের পরিবারের সদস্যরা। 

এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নিখোঁজদের পরিবার। তারা বেঁচে আছে না মারা গেছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ওই হতাহতের ঘটনায় এদের কেউ রয়েছে কি না তারও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মাদারীপুরের ১৩ যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে লিবিয়ায় হতাহতের ঘটনার খবর শুনে শুক্রবার (২৯ মে) বেলা ১১টার দিকে জেলার রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর এলাকার দালাল জুলহাস শেখের বাড়িতে হামলা চালায় নিখোঁজ যুবকদের পরিবার। খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিখোঁজ যুবকেরা জুলহাস শেখের মাধ্যমেই লিবিয়া যায়।  

লিবিয়ায় নিখোঁজ যুবকেরা হলেন- রাজৈর উপজেলার হোসেনপুরের আবদুর রহিম, বিদ্যানন্দী গ্রামের জুয়েল হাওলাদার (২২) একই গ্রামের মানিক হাওলাদার (২৮), টেকেরহাট এলাকার আসাদুল, মনির হোসেন ও আয়নাল মোল্লা, ইশিবপুর এলাকার সজীব ও শাহীন, সদর উপজেলার জাকির হোসেন, জুয়েল হোসেন, সৈয়দুল, ফিরোজ ও দুধখালীর শামীম।

এদিকে নিখোঁজ যুবকদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মাদারীপুরে তাদের স্বজনদেরও খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয় নি।

হোসেনপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিখোঁজ জুয়েল হাওলাদারের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার ও মা রহিমা বেগম বলেন, আমাদের ছেলেসহ রাজৈরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজনকে দালাল চক্র লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪/৫ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায় ৩/৪ মাস আগে। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজী নামে এক গ্রামে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর ভয়েজ রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা হোসেনপুর জুলহাস শেখ নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি। মানুষের কাছে শুনতে পাচ্ছি লিবিয়ায় গুলি করে অনেক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের ছেলে বেঁচে আছে কি না তাও জানতে পারছি না। এখন পর্যন্ত ছেলের কোনো খোঁজ পাই নাই।

একই গ্রামের নিখোঁজ মানিক হাওলাদারের বাবা শাহ আলম হাওলাদারও একই কথা বলেন।  

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত জাহান জানান, লিবিয়ায় লোক নেওয়া দালাল রাজৈরের জুলহাস শেখের বাড়িতে এলাকাবাসী হামলা করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ওই বাড়িতে গেলে জুলহাস বলে তার করোনা হয়েছে। করোনার কথা শুনে আমরা জুলহাস শেখকে মাদারীপুর সদর হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করি।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার কথা শুনেছি। যাদের মধ্যে মাদারীপুরের লোকজনই বেশি। তবে মাদারীপুরের কতজন মারা গেছে এ তথ্য এখন পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাইনি।
 
তিনি আরো জানান, মন্ত্রণালয়ে আমি যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে আমাকে মাদারীপুরের কতজন মারা গেছে সে তথ্য শিগগিরই জানাবে। তাদের মরদেহ কীভাবে দেশে আনা যায় আমি সে বিষয়েও মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৭ ঘন্টা, মে ২৯, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa