bangla news

বৃষ্টির স্পর্শে সকাল শুরু বিষণ্ন ঈদের

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ৬:৫৯:২৬ এএম
মেঘাচ্ছন্ন আকাশ

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ

মাদারীপুর: ভোরের আলো ফুটতেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ফুঁড়ে টিপ টিপ বৃষ্টির ফোটা। হালকা বাতাস। কখনো বৃষ্টির বেগ কিছুটা বাড়ে আবার কমে গিয়ে টিপটিপ ঝরে। তবে আকাশে কালো মেঘের বিচরণই অনুমান করিয়ে দেয় বৃষ্টিভেজা হতে পারে ঈদের দিনটি! 

করোনা ভাইরাসের দিনগুলোতে এ এক অন্যরকম ঈদ। অনেকটাই আবেগহীন, বিষণ্ণ। এই ঈদের সকালটা বৃষ্টির স্পর্শে অন্যরকম হয়ে উঠেছে। শেষ রাতের তীব্র গরমের পর ভোরে বৃষ্টিস্নাত শীতল বাতাস অনেকটাই প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছে।

এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি। ঈদের আগের রাতে সেমাই কেনার ধুমও খুব একটা ছিল না স্থানীয় দোকানগুলোতে। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও বাজি ফুটানোর প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। সবকিছু মিলিয়ে এবারের ঈদ এক অন্য রকম আবহ নিয়ে হাজির হলো, এমন অভিমত সাধারণ মানুষের।

সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। হালকা বৃষ্টির মধ্য দিয়ে সকালের শুরু। বাতাসের সঙ্গে ভেসে বেড়ানো কালো মেঘ মনে করিয়ে দেয় দিনের বাকি সময়টাও বৃষ্টিস্নাত হতে পারে। 

এদিকে এলাকায় ঈদের জামাত বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদগাহ বা মাঠের পরিবর্তে লোকসমাগম এড়ানোর জন্য স্থানীয় মসজিদগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য গতকাল থেকেই মসজিদগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে দেখা গেছে। 

মাদারীপুরের পদ্মারপাড়ের এক তরুণ কবি তামিম ইসমাইল বলেন, এই ঈদের স্মৃতি আজীবন হৃদয়কে নাড়া দেবে। এরকম বিষণ্ণ ঈদ আমরা চাই না। ঈদকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি থাকতো না। আজ সেটা নেই।

চাকরির সুবাদে ঢাকাতে অবস্থান করা শিবচরের আরেক তরুণ কবি আজিজুল হক ওয়াসিম বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে স্টেশন ত্যাগ করিনি। স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকে। প্রতিবছর বাড়িতে ঈদ করি। পরিবার-পরিজন নিয়ে। কিন্তু এবার ঝুঁকি থাকায় বাড়ি যাইনি। এ এক কষ্টের ঈদ! যা বলে বোঝানো যাবে না। সন্তানের মুখের ছবি বারবার মনে ভেসে উঠছে।

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই খুশি! কিন্তু এবারের ঈদ আনন্দের পূর্ণ সেই বারতা নিয়ে হাজির হয়নি। মহামারি করোনা ভাইরাস ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। ঈদের দিন মানেই বন্ধু-পরিচিত জনদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো। সেমাই-জর্দা খাওয়া। নামাজ শেষে কোলাকুলি করে হৃদ্যতা জানান দেয়া! কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নিজ ঘরেই কাটাতে হচ্ছে ঈদের দিন।

ভোরের আলো ফুটতেই বৃষ্টির স্পর্শ। টিনের চালায় টিপটিপ ছন্দে বৃষ্টির শব্দ আর বাতাসে ভেসে আসা কদমফুলের মোহনীয় গন্ধ কিছুটা হলে ভাবুক মনকে দেবে প্রশান্তি। ভুলিয়ে দেবে বিষণ্ণতা! 

বাংলাদেশ সময়: ০৬৫৯ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০২০
এমকেআর/এএটি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-05-25 06:59:26