ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

টাঙ্গাইলে আরো পাঁচ জন করোনায় আক্রান্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৩, ২০২০
টাঙ্গাইলে আরো পাঁচ জন করোনায় আক্রান্ত

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে নতুন করে আরো পাঁচ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সাতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলো। 

আক্রান্তরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল আসার পর তাদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। এতে পুরো জেলায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আগতদের নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।



নতুন করে পাঁচ জন আক্রান্তের মধ্যে তিন জনই ভূঞাপুর উপজেলার। বাকি দুইজন নাগরপুর ও মধুপুর উপজেলার। আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাদের বাড়ি এবং গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে।

আক্রান্ত পাঁচ জনের মধ্যে চারজন ঢাকা থেকে এবং একজন নারায়ণগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল জেলায় নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। বাড়িতে আসার পর করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার রোগতন্ত্র, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। পরীক্ষার পর রোববার রাতে আইইডিসিআর থেকে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জনকে তাদের আক্রান্তের বিষয়টি জানানো হয়। আক্রান্তদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন পারভীন বাংলানিউজকে জানান, গোবিন্দাসী ইউনিয়নের আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স ৪০ বছর। তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসেন। অপর দুই আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি একই ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামে। তাদের একজনের বয়স ২৬ বছর, অপর জনের বয়স ২২ বছর। সাফলকুড়া এবং জিগাতলা দুটি গ্রাম রোববার রাতেই লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা বাংলানিউজকে জানান, উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের গোবুদিয়া গ্রামের পোশাক কারখানার এক কর্মী ঢাকা থেকে কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসার পর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। তার আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তার বাড়ি এবং আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, ভাদ্রা ইউনিয়নের ওই ব্যক্তি ঢাকার বাংলাবাজারের বই বাধাই শ্রমিক। তিনি গ্রামের বাড়িতে আসার পর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। তার নমুনা পরীক্ষার পর রোববার রাতে তিনি করোনা আক্রান্ত বলে জানা যায়। তার বয়স ২০ বছর। পরে তার বাড়িসহ ৩০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
  
প্রসঙ্গত, এর আগে মির্জাপুর ও ঘাটাইলে দুই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে মির্জাপুরে আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা টাঙ্গাইল থেকে পাঠানো হয়েছিলো। আর ঘাটাইলে আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকার আইইডিসিআরে নমুনা দিয়েছিলেন। তাদের দুজনকেই ঢাকার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  

এছাড়া টাঙ্গাইলের গোপালপুরের অধিবাসী জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার গ্রামের বাড়িও লকডাউন করা হয়েছে। তিনি আক্রান্ত হওয়ার কয়েকদিন আগে গ্রামের বাড়ি ঘুরে গেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৩, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa