ঢাকা, বুধবার, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০, ১৬ জিলকদ ১৪৪১

জাতীয়

ঘরে বসে নানা কাজে ব্যস্ত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৫-০৪ ০৫:০৩:৩৮ এএম
ঘরে বসে নানা কাজে ব্যস্ত ড চিং

ঢাকা : ‘সময় যেন কাটে না’- রাজধানীসহ পুরো বাংলাদেশের অবস্থাই এখন যেন এমন। ঘরে বসে থেকে থেকে এক প্রকার ‘বোর’ হয়ে গেছেন প্রায় সবাই। তারপরও নিজেকে ভালো রাখতে, পাশের মানুষকে ভালো রাখতে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী এখন সকলে। সৃজনশীল নানা কাজে সময় কাটাচ্ছেন তারা। 

তবে এর মধ্যেও অনেকেই অকারণেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। তাদেরকে ঘরে থাকারই পরামর্শ দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।


 
শনিবার (৪ এপ্রিল) ঘরে থাকা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হলো। তারা জানালেন, ঘরে বসে নানা সৃজনশীল কাজে সময় দিচ্ছেন তারা।
 
সরকারি কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ঘরে বসে এখন পরিবারকে সময় দিচ্ছি। বাড়িওয়ালা কাউকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন। ঘরে বসে বাচ্চাকে একান্ত সময় দিচ্ছি। সে সঙ্গে বাড়ির কাজেও স্ত্রীকে সহায়তা করছি।
 
ঘরে বসে সৃজনশীল কাজে সময় দিচ্ছেন জানিয়ে কবি পিয়াস মজিদ বলেন, জমে থাকা বইগুলো পড়ছি। কিছু লেখালেখি করছি। চলচ্চিত্রও দেখছি। সবই পুরোনো দিনের। বলা যেতে পারে, পুরানো বই আর চলচ্চিত্রগুলোকে রিভিশন দিচ্ছি।
 
তরুণ কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বলেন, করোনার এই দুর্যোগে এগারো দিন ধরে স্বেচ্ছাবন্দি। সংসারের টুকটাক জিনিসপত্র কেনার একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছি না।
 
‘অবরুদ্ধ থাকতে আমার খারাপ লাগে না। সাপ্তাহিক ও বাৎসরিক ছুটির দিনগুলোতে বলতে গেলে বাসায় স্বেচ্ছাবন্দি থাকি। পড়ি আর লিখি। এখনো তাই করছি। দেড় বছর ধরে যে পাণ্ডুলিপিটার খসড়া প্রস্তুত করেছিলাম এবার সেটা ফাইনাল করছি। বেশ দ্রুতই এগুচ্ছে। এই অবরুদ্ধকাল না থাকলে ফাইনাল করতে হয়ত দু-তিন মাস লেগে যেত। এরই মধ্যে দুটি গল্পও লিখেছি। এখনো খসড়া। কদিনের মধ্যেই হয়ত ফাইনাল করে ফেলব। পড়তে ও লিখতে পারার খানিকটা অভ্যাস আছে। নইলে এই অবরুদ্ধকাল দুর্বিসহ হয়ে উঠত। ’
 
রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার গৃহিনী রাত্রী আহমেদ বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। কিন্তু বাসার বাইরে যাওয়া যাবে না এ চিন্তাতেই বাসাকে জেলখানা মনে হচ্ছে। তবুও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী গেল দুই সপ্তাহ বাসা থেকে বের হইনি। তবে অবস্থা দীর্ঘ হলে অনেকদিন ঘরবন্দি থেকে বাচ্চা অন্যভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিনা সে দুশ্চিন্তাও রয়েছে মনে।

অনলাইন শপ ফিনারির সত্বাধিকারী ড চিং ঘরে বসেই নিজের আগামী দিনের কাজ গুছিযে নিচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসার অবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তিত তিনি।
 
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, অবস্থা শোচনীয়। কেননা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি থাকে পহেলা বৈশাখ ঘিরে। পহেলা বৈশাখের জন্য ইতোমধ্যে পুঁজির দুই-তৃতীয়াংশ ইনভেস্ট করা হয়েছে, কিন্তু বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ। এমন অবস্থায় এসব পণ্য কেউ ছাড়েও কিনবে না। তাছাড়া আগামী বছর পহেলা বৈশাখ ও রোজা একই সময় তখনও বিক্রি বন্ধ থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে খুবই শোচনীয় অবস্থা। এখন ঘরে বসে কিছু নিয়মিত ক্রেতা আছে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছি ও অনলাইন ব্যবসাটা চালু রেখেছি। কিন্তু অনলাইনেও বিক্রি নেই।
 
তিনি বলেন, এমনিতে এখন ঘরে বসে মেয়ে জুলাশিয়াকে সময় দিচ্ছি। সময় ভালো যাচ্ছে কিন্তু ব্যবসা নিযে চিন্তিত।
 
বাংলাদেশ সময় ০৫০২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২০
ডিএন/এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa