bangla news

‘ঘাবড়াবেন না, করোনা সংকটে সবকিছু নিয়ে পাশে আছে সরকার’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৩-৩০ ১:৩৩:১১ এএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে না ঘাবড়ে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই সংকটে সবকিছু নিয়ে সরকার জনগণের পাশে আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে বলবো ঘাবড়ালে চলবে না। এই অবস্থার মোকাবিলা করবার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সেভাবেই সবাইকে চলতে হবে। যাতে করে আমরা আমাদের দেশের প্রতিটি জনগণকে সুরক্ষিত করতে পারি।’

রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেওয়া অনুদান গ্রহণকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে বসুন্ধরা গ্রুপ ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর অনুদানের এ চেক হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন। অনুদানের চেক দেওয়ার পর বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। 
...এ সময় বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার ও বসুন্ধরা ট্রেড সেন্টারকে করোনা চিকিৎসা ও কোয়ারেন্টিন হাউস হিসেবে ব্যবহার করতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর।

হাসপাতাল বানানোর প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং অতীতের বিভিন্ন সময়ের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদানের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বসুন্ধরা গ্রুপ ছাড়াও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ও মাস্ক প্রদান করে।  

জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ার জন্য সব প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আতঙ্কিত হয়ে না হয়ে দেশবাসীকে ধৈর্যের সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই করোনার বিস্তার যাতে না হয়, সেজন্যই আমরা বাংলাদেশে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং সেটা অব্যাহত রাখছি।’

‘করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করাসহ একটার পর একটা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দেশের উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয় এবং দেশের মানুষ যাতে আর্থিকভাবে কষ্ট না পায় সে ব্যবস্থাও করেছে।’

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা সহযোগিতা চেয়েছেন তাদেরও সহযোগিতা করতে পারবো। সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে এবং মানবিক কারণেই আমরা তা করবো। শুধু নিজেদের দেশ নয়, অন্য দেশেরও যদি কিছু প্রয়োজন হয়, তাহলে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেব।’

সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই ঘরে থাকবেন এবং কোনো কাজ থাকলে ঘরে বসে করবেন। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। যাতে করে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরতে না পারে।’ 

করোনা বিস্তাররোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘এটার বিস্তার যাতে না হয়, সেজন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা বাংলাদেশে নিতে সক্ষম হয়েছি এবং প্রথমে সচেতনতা সৃষ্টির পর ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ করে দিয়েছি। বলতে গেলে সেই জানুয়ারি মাস থেকেই আমাদের এই পদক্ষেপগুলো চলছে।’

এই সংকটে দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কষ্টে থাকে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, সাধারণ নিম্নবিত্ত। অনেকেই আছেন যারা খেয়ে পরে চলতে পারলেও বর্তমানে কিন্তু এই অবস্থা চলার ফলে তারা সত্যিই খুব কষ্টে আছেন।’

দরিদ্র মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষদেও কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া একান্তভাবে জরুরি। প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত খাদ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজন তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। আমাদের তালিকা তৈরি করা আছে, আরও তালিকা করা দরকার। কারণ, মানুষকে ঘরে আটকে রাখলেই হবে না, তাদেরও খাদ্য ও জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা আমাদের করে দিতে হবে।’
...
দরিদ্রদের জন্য সরকারের সহায়তা অব্যহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুস্থ গোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তাসহ (ভিজিএফ) যেসব আর্থিক সহায়তা আমরা দিয়ে থাকি তা অব্যাহত থাকবে।’

‘আমাদের সড়ক ও নৌপরিবহন যেহেতু বন্ধ, তাই তাদের শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছে না। তারা ঘরে বসা। খাবার কিনে মজুদ করার মতো অবস্থা তাদেরও নাই। এই শ্রেণীর মানুষের কথাও আমাদেও চিন্তা করতে হবে। তাদের তালিকা করে, আমাদের খাদ্যশস্য যা যা প্রয়োজন তা পৌঁছেয়ে দিতে হবে।’

চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য পোশাক এবং পিপিই সামগ্রী দেওয়ার দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদেরও সুরক্ষিত করা দরকার। সেই বিষয়ে আমাদেরও দৃষ্টি দিতে হবে। এরই মধ্যে আমরা সরকারিভাবে কাজ করছি। আবার কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও সহযোগিতা করছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিচ্ছেন। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সবাইকেও সুরক্ষার প্রয়োজনীয় সুরক্ষার পোশাক দিতে হবে।’

‘কেননা তারাই মূলত রোগী নাড়াচাড়া করেন। এছাড়া হাসপাতালের অন্য যারা কাজকর্মে যুক্ত থাকেন তাদেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অনুদান সরাসরি নিতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ভিডিও কনফারেন্সে আছি, আমার পক্ষ থেকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি তা গ্রহণ করছেন। এটা আমার কাছে খারাপও লাগছে, কারণ আপনাদের সঙ্গেও মুখোমুখি দেখা করতে পারলাম না।’

‘এটার আরেকটা কারণ হচ্ছে আমি নিজেই যদি না মানি, তাহলে অপরকে মানতে বলবো কিভাবে? যেহেতু সবাইকে বলছি দূরত্ব বজায় রাখতে, ঘরে থাকতে।’

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সেনাবাহিনী ২৫ কোটি টাকা, নৌবাহিনী ৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩ টাকা, বিমান বাহিনী ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ১ কোটি টাকা, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ১ কোটি টাকা অনুদান দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা অনুদানের চেক হস্তান্তর করছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সীমান্তরক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ ৩ কোটি টাকা, নাভানা গ্রুপ ২৫ লাখ টাকা, হোসাফ গ্রুপ ৫ কোটি টাকা, আবুল খায়ের গ্রুপ ৫০ লাখ টাকা, সামিট পাওয়ার লিমিটেড ৩ কোটি টাকা, কনফিডেন্স পাওয়ার কোম্পানি ৩ কোটি টাকা, দি ওয়েস্টিন হোটেল ২ কোটি, লা মেরিডিয়ান ২ কোটি টাকা অনুদান দেয়।

সিএমসি-চায়না ১০ লাখ মাস্ক, ১০ হাজার পিপিই এবং কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স ১০ হাজার পিপিই দেয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।

** করোনা: ৫ হাজার শয্যার হাসপাতাল বানাবে বসুন্ধরা গ্রুপ
** প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১০ কোটি টাকা দিল বসুন্ধরা গ্রুপ
** করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

বাংলাদেশ সময়: ০১৩৩ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০২০
এমইউএম /এসআরএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   করোনা ভাইরাস
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-03-30 01:33:11