ঢাকা, শুক্রবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ সফর ১৪৪২

জাতীয়

যুক্তরাজ্যফেরত ছেলের সংস্পর্শে এসে বাবার মৃত্যু!

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩১০ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০২০
যুক্তরাজ্যফেরত ছেলের সংস্পর্শে এসে বাবার মৃত্যু!

সিলেট: যুক্তরাজ্যফেরত ছেলের সংস্পর্শে এসে মারা গেছেন কিডনি রোগে আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শহরের হাউজিং এস্টেটের একটি বাসায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে মৃত্যুটি সন্দেহজনক হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে জানানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ জনবলের অভাবে কোনো ধরনের নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করা হয়।



জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে রাতেই শহরের মানিকপীর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সিটি করপোরেশন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বাংলানিউজকে বলেন, ওই বৃদ্ধ কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাচ্ছিলেন। এরমধ্যে গত ১৪ মার্চ তার ছেলে যুক্তরাজ্য থেকে বাসায় আসেন।

ছেলে বাড়ি আসার দুই-তিন দিন পর ওই বৃদ্ধের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এরপর নির্দিষ্ট তারিখের আগেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ডায়ালাইসিস করাতে যান তিনি। চিকিৎসকরা আগে আসার কারণ জানতে চাইলে শ্বাসকষ্টের কথা তুলে ধরেন। ছেলে যুক্তরাজ্যফেরত জানতে পেরে ওই বৃদ্ধকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এ মৃত্যুর ঘটনাটি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কারণ স্থানীয়দের ধারণা ছেলের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ওই বৃদ্ধ মারা গেছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গত ২২ মার্চ ওই বৃদ্ধের বাসায় যান। সে সময় নিহত বৃদ্ধার স্ত্রী জানান, চারদিন ধরে তার স্বামী জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগছেন। এ অবস্থায় অসুস্থ বাবাকে রেখেই ছেলে পুনরায় যুক্তরাজ্যেফেরত যান।

এ সময় জাহিদুল ইসলাম ওই বৃদ্ধকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। এছাড়া বাসায় কোনো মেহমান আসতে নিরুৎসাহিত করাসহ বাসাটি লকডাউনের নির্দেশনা দিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, তারা পরামর্শ অনুসারে হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় ছিলেন। রাতে মৃত্যুর খবর জানতে পেরে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

তবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের পিপিই নেই। এছাড়া রোগতত্ত্ব বিভাগের লোকজন ছাড়া নমুনা সংগ্রহ করা দুস্কর। তাই এটি করোনায় সাসপেক্টটেড কেস হওয়ায় দ্রুত দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ০৩০৪ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০২০
এনইউ/আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa