bangla news

হাত ধোয়া-মাস্ক ছাড়া কারখানায় প্রবেশ নয়

সাভার করেসপন্ডেন্ট সাগর ফরাজী, সাভার করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৩-২১ ১২:৫২:৪৬ পিএম
শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ছবি: বাংলানিউজ

শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ছবি: বাংলানিউজ

সাভার (ঢাকা): করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে এটি মানুষের জন্য কতটা বিপদজনক ও ভয়ঙ্কর। ২০১৯ সালের শেষের দিকে সৃষ্টি হওয়া এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। এ কারণে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র, সভা-সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চাকা পোশাক শিল্প কারখানা বন্ধ করা হয়নি। পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করলে কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। বন্ধ হয়ে যাবে রপ্তানির প্রধান চাকা। তাই পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ না করে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কারখানার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দফতর। 

সাভারের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের নানাভাবে সচেতন করে করোনা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এমনই একটি পোশাক কারখানা সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়ার এ আর জিন্স প্রোডিউসার লিমিটেড। যেখানে দেশে করোনা শনাক্ত  হওয়ার পরে কারখানায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। হাত ধোয়ার জন্য সুব্যবস্থা, বিনামূল্যে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে মাস্ক বিতরণসহ প্রতিদিন কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।

সরজমিনে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে কারখানার সামনে গিয়ে দেখা গেছে, কারখানা থেকে বিতরণ করা মাস্ক পড়ে আসেন শ্রমিকরা। পরে একের পর এক সিরিয়াল ধরে কারখানার বাইরে থেকে হাত ধোয়া শেষে হাত মুছে শরীরের তাপমাত্রা মেপে প্রবেশ করছেন ভেতরে। পাশাপাশি কারখানার কর্মকর্তারা হাতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে কারখানার সামনে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতার বার্তা জানিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া কারখানার প্রবেশপথ ও ভেতরে পথে নানা রকম ব্যানার-ফ্যাস্টুন টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কারখানাটির শ্রমিক কুলসুম, সকালে মেয়ে রিমাকে নিয়ে এসে তার সঙ্গে হাত ধুয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে কারখানায় ঢোকেন। 

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, রিমা জন্ম নেওয়ার পর থেকেই আমাদের কারখানার চাইল্ড কেয়ারে রেখে কাজ করছি। সারাদেশে যেভাবে করোনার প্রভাব পড়েছে এতে করে আমাদের কারখানা যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আমাদের জন্য ভালো। হাত ধুয়ে, মাস্ক পড়ে, শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে কারখানায় ঢুকতে হচ্ছে এটি অামাদের জন্য ভালো। আমরা সুস্থ থাকলে কাজ করতে পারবো নয়তো কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

রাকিব নামের আরেক শ্রমিক বলেন, এ নিয়ম করাতে আমরা অনেক খুশি। এভাবে যদি কারখানা পরিচালনা করা হয় তাহলে কারখানা বন্ধ হবে না। আর যদি কারখানা করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় আমাদের শ্রমিকদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

এ আর জিন্সের এডমিন অ্যান্ড এইচআর ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার মো. রিয়াজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, গত (১৭ মার্চ) মঙ্গলবার থেকে আমরা এটি শুরু করেছি। প্রতিদিন তিনজন মেডিক্যাল অফিসার প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়। প্রতি এক ঘণ্টা পর পর আমরা শ্রমিকদের খোঁজ নিচ্ছি।

কারখানার জেনারেল ম্যানেজার র‍্যাক লিটন বাংলানিউজকে বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আমাদের কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল কবির স্যার আগে থেকেই সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেই কারখানায় শ্রমিকদের উদ্দেশে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য বক্তব্য দেন। এছাড়াও প্রায় ২৭০০ শ্রমিককে নিজস্বভাবে তৈরিকৃত মাস্ক দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি শ্রমিকের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছি কারো কোনো অসুবিধা হলে ছুটির ব্যবস্থা করছি।

বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সভাপতি আল কামরান বাংলানিউজকে বলেন, সম্প্রতি সারাবিশ্ব যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে তা ঠেকাতে বাংলাদেশকেও সচেতন হতে হবে। পোশাক কারখানাগুলোতে সাধারণত মানুষের সমাগম বেশি থাকে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি করলে করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটবে না। আর কারখানাও বন্ধ করার প্রয়োজন হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪৪ ঘণ্টা, ২০ মার্চ, ২০২০
আরএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   সাভার করোনা ভাইরাস
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-03-21 12:52:46