bangla news

বাংলাদেশের জন্য ভারতের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে

অ্যাডিশনাল আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০২-২৭ ৬:৩৭:৫৭ পিএম
বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। ছবি: বাংলানিউজ

বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। ছবি: বাংলানিউজ

কক্সবাজার থেকে: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তাদের জন্য ভারতের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গাক্যাম্পে শরণার্থীদের জন্য ভারতের পঞ্চম দফার ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রতাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদারসহ দেশি-বিদেশি এনজিও প্রতিনিধিরা।

হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন, চট্টগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার অনিন্দ ব্যানার্জি, হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব  দীপ্তি আলাংঘাট, অ্যাটাশে (প্রেস) দেবব্রত পাল প্রমুখ।ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশসহ অন্যরা। ছবি: বাংলানিউজরীভা গাঙ্গুলি বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। আমরা সব সময় চেয়েছি রোহিঙ্গারা নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করুক। সেখানে এজন্য ভারত কিছু পাকা ঘরও তুলে দিয়েছে।

এসময় মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়তে ভারত সব সময় পাশে অাছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনটা যেন সম্মানের হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেন হাইকমিশনার।

রীভা গাঙ্গুলি বলেন,  প্রতিবেশী হিসেবে ভারত যে কোনো বাধা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে সদা প্রস্তুত। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উদারতা ও মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ভারত। এই ত্রাণসামগ্রীগুলো বাংলাদেশের জনগণের মানবিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এ মানবিক সহায়তার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জনগণ, সেনাবাহিনী, প্রধানমন্ত্রীসহ সবার কাছ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছিলাম স্বাধীনতার পরেও সেটা অব্যাহত রয়েছে।

'রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত প্রথম থেকে নিবিড় দৃষ্টি রেখেছে এবং মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা মিয়ানমারে স্বাস্থ্যকর সুন্দর পরিবেশে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চাই। আশা করি ভারত এ বিষয়ে আমাদের আগের মতো সহযোগিতা করে যাবে।'

সিনিয়র সচিব শাহ কামাল তার বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভারত সরকার প্রথম থেকে আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে যেসব জিনিস প্রয়েজনীয় তা দিয়ে যাচ্ছে। এখন সেলাই মেশিন দিচ্ছে। আশাকরি আপনাদের স্বনির্ভর হতে এটা সহায়তা করবে। একই সঙ্গে জীবনমানের কিছুটা হলেও উন্নতি করবে।

আরও পড়ুন>>>৫ম দফায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা দিল ভারত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তার পঞ্চম চালানে প্যাডেলযুক্ত এক হাজার সেলাই মেশিন, ৩২টি অফিস তাঁবু, ৩২টি উদ্ধার সরঞ্জাম, ৯৯টি ফ্যামিলি তাঁবু বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করেছে। রোহিঙ্গা নারীদের এসব সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে 

মঞ্চে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশসহ অন্যরা। ছবি: বাংলানিউজত্রাণ সহায়তার এ চালানটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ অক্টোবর ২০১৯ ভারত সফরের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুতদের কক্সবাজারের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের মানবিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতেই এই ত্রাণ সামগ্রীগুলো পাঠানো হয়েছে। এই ত্রাণসামগ্রী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নারীদের দক্ষতা বিকাশে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের শিবিরগুলিতে অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

পঞ্চম চালানটি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া একটি প্রক্রিয়ার অংশ, যখন ভারত সরকার মানবিক সহায়তার প্রথম চালান সরবরাহ করেছিল। ৯৮১ মেট্রিক টনের এই ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিনি, লবণ, রান্নার তেল, চা, নুডলস, বিস্কুট, মশারি ইত্যাদি। ২০১৮ সালের মে মাসে, ভারত ৩৭৩ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করে। যার মধ্যে ছিল ১০৪ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধ, ১০২ মেট্রিক টন শুঁটকি, ৬১ মেট্রিক টন শিশুখাদ্য এবং বর্ষা মৌসুমে ব্যবহারের জন্য ৫০ হাজার রেইনকোট ও ৫০ হাজার জোড়া গামবুট । 

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তৃতীয় চালানটি সরবরাহ করা হয়, যেখানে ভারত ১.১ মিলিয়ন লিটার সুপার কেরোসিন তেল ও ২০ হাজার কেরোসিন স্টোভ হস্তান্তর করেছিল এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার কম্বল, ২ লাখ উলের সোয়েটার এবং ৫০০টি পরিবেশবান্ধব সৌর সড়কবাতি। 

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
এএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   কক্সবাজার রোহিঙ্গা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2020-02-27 18:37:57