ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১১ আগস্ট ২০২০, ২০ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বিদ্বেষ নিয়ে চলি না, সব ব্যথা সয়ে কাজ করছি: প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩২২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
বিদ্বেষ নিয়ে চলি না, সব ব্যথা সয়ে কাজ করছি: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: সব ব্যথা সহ্য করে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা বলেছেন, কারো প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে চলি না বা প্রতিশোধ নিতেও যাইনি। সব ব্যথা ও কষ্ট সহ্য করে কাজ করে চলেছি। 

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।  

এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।


  
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিসই শুধু চিন্তা করেছি- আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করেছেন যে মানুষের জন্য, সেই সাধারণ মানুষের জীবনটা যেন সুন্দর হয়। সেজন্য নিজের জীবনের সব ব্যথা সবকিছু মুখে চেপে রেখে আমি দিনরাত কাজ করে চলেছি। শুধু একটা কারণে- আমি চাই দেশটা যেন এগিয়ে যায়।  

‘বাংলাদেশের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী মানুষ যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। আমি কারো প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে চলি না বা প্রতিশোধ নিতেও যাইনি। যেখানে অন্যায় হয়েছে ন্যায় করার চেষ্টা করেছি। ’

পড়ুন>> ধর্ষকদের ধরিয়ে দিন, কঠোর ব্যবস্থা নেবো: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, যখনই বাংলাদেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করলো তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছে তাদের নেতাকে, আমি এবং আমার বোন হারিয়েছি বাবাকে।  

‘শুধু আমরা-ই নই, ১৫ আগস্টে আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি, স্বজন হারা অনেকেই রয়েছি। শুধু হত্যা করা হয়নি। খুনিদের বিচার পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। বিচারের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, খুনিদের সবাই তো উৎসাহিত করেছেন। ’

জিয়া-খালেদার সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করে। পরে কর্নেল রশিদকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসায়। জেনারেল এরশাদ খুনি ফারুককে পার্টি (দল) করতে দেয়, ফ্রিডম পার্টি করে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেয়।

পড়ুন>>ধর্ষকদের ধরিয়ে দিন, কঠোর ব্যবস্থা নেবো: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘কী যন্ত্রণা নিয়ে আছি! তারপরও সব ব্যথা, সব কষ্ট সহ্য করে একটা জিনিসই শুধু চিন্তা করেছি, আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করেছেন যে মানুষের জন্য, সেই সাধারণ মানুষের জীবনটা যেন সুন্দর হয়। সেজন্য নিজের জীবনের সব ব্যথা বুকে চেপে রেখে আমি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এটা শুধু একটা কারণে। আমি চাই দেশটা যেন এগিয়ে যায়।  

শেখ হাসিনা বলেন, আমি চেয়েছি যেন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে অন্যায় হয়েছে, সেখানেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছি। সেজন্য জাতির পিতার খুনিদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি।  

‘সন্ত্রাস, দুর্নীতিবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবো। দেশটা যাতে সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে তার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সময়: ২২১৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০
এসকে/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa