bangla news

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি: ১ বছরেও মেলেনি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট 

আবাদুজ্জামান শিমুল, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০২-১৮ ৭:১৬:০৩ পিএম
চুড়িহাট্টা ট্র্যাডেজির ফাইল ফটো

চুড়িহাট্টা ট্র্যাডেজির ফাইল ফটো

ঢাকা: দু’দিন বাদেই বছর অতিক্রম করবে চকবাজারের চুড়িহাট্টার সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। যে আগুন কেড়ে নিয়েছিল ৭১ জনের তাজা প্রাণ। অথচ বিভীষিকাময় সে মৃত্যুর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনও পায়নি পুলিশ।

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজার চুড়িহাট্টা ওয়াহেদ ম্যানশনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। ওই ভবনে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নেয় আগুন। ঘটনাস্থলেই পুড়ে মৃত্যু হয় ৬৭ জনের। দগ্ধ ১৫ জনের মধ্যে ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মারা যান। 

প্রায় বছর অতিক্রম করতে চলা এ ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লালবাগ ডিভিশনের ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা এখনও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাইনি। সব সময় চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তারা বলছেন রিপোর্ট দিতে একটু দেরি হবে। মরদেহের কিছু পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই দেবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা প্রায় একবছর পরে এসে তোড়জোড় শুরু করেছেন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য।

‘চুড়িহাট্টা ঘটনার পরপরই আসিফ নামে এক ব্যক্তি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছিলাম। ওই দু’জন বর্তমানে জামিনে আছেন। আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করতে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অতি জরুরি। সেটা পেলেই আমরা আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করবো।’ 

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আশাকরি বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মরদেহের ডিএনএ রিপোর্ট এক সপ্তাহ আগে আমরা হাতে পেয়েছি। তাছাড়া আমাদের এক চিকিৎসক বদলি হওয়ার কারণে একটু দেরি হয়েছে। আশাকরি বুধবার ৬৭টি মরদেহের  মধ্যে অধিকাংশ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে দেওয়া হবে। এছাড়া যে চিকিৎসক বদলি হয়েছেন তিনি এলেই বাকি রিপোর্টগুলো তার সই নিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকার জেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী মো. জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৭১ জনের মৃত্যুর কথা নথিবদ্ধ। ঘটনাস্থলে পুড়ে মারা যান ৬৭ জন। এছাড়া দগ্ধ ছিলেন ১৫ জন। এদের মধ্যে ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৭১টি মরদেহের মধ্যে চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া পুলিশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। কারণ এই চারটি মরদেহ সহজেই শনাক্ত হয়েছিল।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে গিয়ে তাদের নথিতে দেখা যায়, ৬৭ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। 

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০
এজেডএস/এএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চকবাজার ট্র্যাজেডি
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-02-18 19:16:03