ঢাকা, সোমবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১২ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

আল জয়নালের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০২-১৪ ১২:০৯:২৩ এএম
আল জয়নালের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জাতীয় পার্টি নেতা আল জয়নাল আবেদীন

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত বিতর্কিত জাতীয় পার্টি নেতা আল জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম মাসুমের দায়ের করা প্রতারণা মামলায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহসীনের আদালত এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম মাসুম জানান, ২১ জানুয়ারি তিনি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি প্রতারণা মামলার আর্জি করেছিলেন।

আদালত সেটি আমলে নিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করে জয়নাল আবেদীনকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন।

কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জয়নাল আবেদীন আদালতে উপস্থিত না হয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তার পক্ষের একজন আইনজীবী দিয়ে সময় প্রার্থনা করেন। তবে জয়নাল আবেদীন আদালতে উপস্থিত না হওয়ার আদালত সময় প্রার্থনা মঞ্জুর না করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বিবরণীতে অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম মাসুম উল্লেখ করেন, বিবাদী জয়নাল আবেদীন পর বিত্তলোভী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, অর্থ আত্মসাৎকারী, দাঙ্গা হাঙ্গামাকারী, সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক ও আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল। বাদী অ্যাডভোকেট অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম মাসুম জমি বিক্রির পাঁচ লাখ পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিবাদী জয়নাল আবেদীন পাঁচ লাখ টাকা একটি চেক দেন।

পরে মো. নজরুল ইসলাম মাসুম টাকা না পেয়ে জয়নাল আবেদীনের দেওয়া চেকটি নিয়ে ব্যাংকে গেলে ব্যাংকে একাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স নেই বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর বাদী অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম মাসুম জয়নাল আবেদীনের কাছে গিয়ে সরাসরি টাকা চাইলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করে বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলেরও জমি দখলের অভিযোগ ছিল বিতর্কিত জাতীয় পার্টির নেতা আল জয়নালের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সকালে হাসান ফেরদৌস জুয়েল তার বাড়ির দেয়াল মেরামত করতে গেলে বাধা দিয়েছিলেন জয়নাল আবেদীন। হাসান ফেরদৌস জুয়েলের জমির পাশের জায়গাগুলোও জোর করে দখল করে নেন জয়নাল আবেদীন।

এদিকে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জয়নাল আবেদীনের নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের জায়গা দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছিলেন কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য তৎকালীন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন তারা।

এছাড়া ফতুল্লায় কাতার প্রবাসীর স্ত্রীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আল জয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। দখল করা জমি থেকে কাতার প্রবাসীর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে উচ্ছেদ করতে নানা ধরনের হুমকি দেয়ার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ফতুল্লার হরিহরপাড়া গুলশান রোড এলাকার আব্দুল ওহাবের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে আল জয়নালের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০
এবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa